আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) আপিল আবেদনের প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ৪২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত বিশেষ বুথে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব আবেদন জমা পড়ে।
ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৪২টি আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে ফরিদপুর থেকে ৭টি, রাজশাহী থেকে ৫টি, কুমিল্লা থেকে ৪টি (যার মধ্যে একটি মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে), এবং রংপুর ও খুলনা থেকে ৩টি করে আপিল জমা পড়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ২টি এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ থেকে ১টি করে আবেদন এসেছে। তবে প্রথম দিনে সিলেট অঞ্চল থেকে কোনো আপিল জমা পড়েনি।
প্রথম দিনে আপিল করতে আসা প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। এদিকে বগুড়া-৪ আসনের আলোচিত প্রার্থী হিরো আলম পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন। তবে ইসি তাকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন বিএনপির প্রার্থী এমএ হান্নান।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে এবং সবচেয়ে কম ৩১টি বরিশাল অঞ্চলে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী:
- প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি।
- প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি।
- নির্বাচনী প্রচারণা: ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
- ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।