× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভারতের সেই পুতুলই কি আজকের বেগম খালেদা জিয়া?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৪ এএম । আপডেটঃ ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫২ এএম

বেগম খালেদা জিয়া |

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার জন্মস্থান ও শৈশব। তিনি কি দিনাজপুরে জন্মেছিলেন, নাকি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে? বিএনপির দেওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনী ও জলপাইগুড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির সাথে গবেষকদের তথ্যে উঠে আসছে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান। দেশভাগের স্মৃতি আর হারানো নথিপত্রের ভিড়ে খালেদা জিয়ার শৈশবের সেই দিনগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও রহস্যের এক মিশেল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরের এই বাড়িটিই খালেদা জিয়ার জন্মস্থান বলে পরিচিত।

জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার সেখানেই বসবাস করতেন। জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ভোলা মন্ডল জানান, "আমাদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকের বাড়িতেই খালেদা জিয়ার জন্ম। দেশভাগের পর অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পরিবারের সাথে সম্পত্তি বিনিময়ের মাধ্যমে তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান।" মি. মণ্ডলের দাবি অনুযায়ী, তার মা শৈশবে খালেদা জিয়াকে কোলেও নিয়েছেন। বর্তমানে বাড়িটির মালিক অরিন্দম চক্রবর্তী।

বিএনপির দেওয়া সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, বেগম জিয়ার আদি পৈত্রিক ভিটা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান এবং বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চা ব্যবসায় যুক্ত হন। ১৯৩৭ সালে সেখানেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নয়াবস্তি এলাকায় বসবাস করেন।

ঐতিহাসিক তথ্য খুঁজতে গিয়ে জলপাইগুড়ির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাখ্যা প্রসাদ চক্রবর্তীর স্মৃতিকথায় 'ইস্কিন্দার মিঞা'র উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া 'দাস অ্যান্ড কোং' নামক একটি সংস্থার ১৯৫৪ সালের একটি লেজার খাতায় 'মুহাম্মদ ইস্কান্দর' নামে একজনের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ওই সংস্থার উত্তরসূরি নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত জানান, তার বাবা মনোরঞ্জন দাশগুপ্তের অধীনে ইস্কান্দর মজুমদার চা বাগানের শেয়ার কেনাবেচার (ব্রোকার) কাজ করতেন। তবে ১৯৫৪ সালের পর তার নাম আর নথিতে পাওয়া যায়নি।

খালেদা জিয়ার স্কুল জীবন নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। কেউ কেউ দাবি করেন তিনি জলপাইগুড়ির সাবেরিয়া প্রাইমারি স্কুল বা সদর গার্লস স্কুলে পড়েছেন। তবে গবেষক গৌতম গুহরায়ের মতে, এর কোনো দালিলিক প্রমাণ মেলেনি। তার মতে, ১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় অনেক নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বিএনপি জানিয়েছে, বেগম জিয়ার শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল দিনাজপুরের মিশন স্কুলে এবং পরবর্তীতে তিনি দিনাজপুর গার্লস স্কুল ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষের মতে, ১৯৪৭ এর দেশভাগের পরও পরিবারটি জলপাইগুড়িতে ছিল, কিন্তু ১৯৫০ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও নেহরু-লিয়াকত চুক্তির পর তারা স্থায়ীভাবে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এই দীর্ঘ সময় আর ভৌগোলিক পরিবর্তনের মাঝে খালেদা জিয়ার জন্মের প্রকৃত স্থানটি আজও ইতিহাস ও লোকশ্রুতির এক দোলাচলে বন্দি হয়ে আছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.