বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সঙ্গে অন্য কোনো লাভজনক পেশায় (যেমন: সাংবাদিকতা বা আইন পেশা) যুক্ত থাকার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ২০২৫ সালের নতুন এমপিও নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এই রুলে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ 'বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫' জারি করে। এই নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারায় স্পষ্ট বলা হয় যে, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী একাধিক চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
নীতিমালায় 'লাভজনক পদ' বলতে সরকার বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ কিংবা সাংবাদিকতা ও আইন পেশার মতো বিশেষায়িত পেশাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মুহাম্মদ মাসুদ হাসানসহ ১০ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির।
শুনানি শেষে আদালত ওই নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের ওপর রুল জারি করেন। রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শহিদউল্লাহ জানান, আদালত নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) বিধি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চেয়েছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ছয় লাখের বেশি। এর মধ্যে:
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর: ৩ লাখ ৯৮ হাজার।
- মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর: প্রায় পৌনে ২ লাখ।
- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর: ২৩ হাজারের বেশি।
বিপুল সংখ্যক এই শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর নতুন এই নীতিমালার সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিটকারীদের দাবি, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা তাঁদের পেশাগত ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।