আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে প্রধান উপদেষ্টার গুরুদায়িত্ব পালন শেষে নিজের চিরচেনা পেশাগত জীবনেই ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সফররত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়, দায়িত্ব পালন শেষে শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ আবারও তার বিশ্বখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (তিন শূন্য) তত্ত্ব বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন। দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনাই এই তত্ত্বের মূল ভিত্তি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বিশ্বজুড়ে এই সামাজিক ব্যবসার মডেল নিয়ে কাজ করতেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে আসা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ড. ইউনূস সার্কের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও সুদৃঢ়। গতকাল জানাজায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি। আমরা সবাই মিলে আমাদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকসহ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। তারা গণতন্ত্রের সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ প্রবাসী ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।