‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার চীনা অবস্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের এই সুদৃঢ় অবস্থানের কথা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ। ঢাকার এই ইতিবাচক বার্তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস। এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বের এই ধারা বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশ পুনরায় স্পষ্ট করেছে যে, তারা ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলায় বদ্ধপরিকর। এই নীতি অনুযায়ী:
- বিশ্বে কেবল একটি সার্বভৌম চীন রাষ্ট্র বিদ্যমান।
- তাইওয়ান চীনের মূল ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি।
এদিকে, ২০২৬ সালের নববর্ষের ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনর্মিলন’ অর্জনের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছেন। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেওয়া ভাষণে তিনি এই লক্ষ্যকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাইওয়ান প্রণালির উভয় পাশের জনগণের মধ্যে ‘রক্ত ও আত্মীয়তার নিবিড় বন্ধন’ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিনের এই লক্ষ্য পূরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, তাইওয়ানের চারপাশে চীনা সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পরেই এই কড়া বার্তা দিলেন প্রেসিডেন্ট শি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই সমর্থন বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।