× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাষ্ট্র সংস্কার কি শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৮ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:০৭ পিএম । আপডেটঃ ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:৫০ পিএম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন থেকে 'বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি' গঠনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে জবাবদিহির বাইরে রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার সরকারের কাছে 'কেবলই ফাঁকা বুলি' কি না।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবি এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, চূড়ান্ত অধ্যাদেশে এমন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া কেবল হতাশাজনকই নয়, এটি সরকারের অভ্যন্তরে প্রায় সবক্ষেত্রে সংস্কারবিরোধী মহলের ষড়যন্ত্রের কাছে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য জিম্মি হওয়ার পরিচায়ক।

বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করে, বিগত দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দুদককে একটি জবাবদিহিমূলক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল জন্মলগ্ন থেকে জন-আস্থার সংকটে ভোগা এবং ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিত মতো কেবল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হওয়া দুদকের অবস্থান থেকে উত্তরণ ঘটানো।

টিআইবি মনে করে, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে এই সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত না হওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের অনাগ্রহের ইঙ্গিত বহন করে।

টিআইবি বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, ঐকমত্য কমিশনের প্রধান এবং ১১টি সংস্কার কমিশন প্রতিষ্ঠার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা দুদককে জবাবদিহির বাইরে রাখার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসীকে কি এই বার্তা দিতে চাইছেন যে "রাষ্ট্র সংস্কার কেবলই ফাঁকা বুলি?"

টিআইবি আরও বলেছে, দুদককে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন করার কৌশলগত সুপারিশটি অনুধাবনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের জন্য এটি একটি স্ববিরোধী ও সংস্কারপরিপন্থী নজির।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে অন্তত সাতজন উপদেষ্টা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ তাঁরা জানেন যে এই প্রস্তাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।"

তিনি জুলাই সনদ লঙ্ঘনের এরূপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টির আগে সরকারকে সতর্ক করে বলেন: "তাহলে কেন এত রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ? দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণের উপায় রুদ্ধ করে কীসের রাষ্ট্র সংস্কার?"

টিআইবি জানায়, অধ্যাদেশটির যে খসড়া তারা দেখার সুযোগ পেয়েছিল, তা অনেকাংশে বিদ্যমান আইনের তুলনায় উন্নত মানের ছিল—এজন্য সংস্থাটি সরকারকে সাধুবাদ জানায়।

তবে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের পাশাপাশি আরও কিছু ঐকমত্য-অর্জিত কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে। টিআইবির মতে, সরকারের অভ্যন্তরে স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি-সহায়ক ও সংস্কার-পরিপন্থী অবস্থান ছাড়া এর অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে না।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.