× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

একদিনে তিনবার ভূমিকম্প: কাটছে না আতঙ্ক

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২২ এএম । আপডেটঃ ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৩ এএম

ভূমিকম্পের ভয়াবহ ঝাঁকুনির পর বাইরে বেরিয়ে উঁচু ভবনগুলোর দিকে চোখে তাকিয়ে আছে উৎসুক জনতা। তাদের চোখে মুখে তখনো লেগে আছে ভয় আর অনিশ্চয়তার ছাপ। ছবিটি রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে তোলা। সংগৃহীত

মাত্র একদিনের ব্যবধানে শনিবার (২২ নভেম্বর) সাড়ে সাত ঘণ্টার মধ্যে দেশে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ও সন্ধ্যায় হওয়া দু'টি ভূকম্পনেরই উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। গত শুক্রবারের তীব্র ভূমিকম্পে নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনার পর নতুন এই কম্পনগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবমিলিয়ে গত দুই দিনের ভূকম্পনের জেরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ১০ জনের প্রাণহানি এবং ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি গঠন করেছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) মোট তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এগুলোর উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা ছিল নিম্নরূপ:


১ম কম্পন (সকাল)

সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়।


২য় কম্পন (সন্ধ্যা)

সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩.৭ মাত্রার কম্পন হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডায়।


৩য় কম্পন (সন্ধ্যা)

দ্বিতীয় কম্পনের মাত্র এক সেকেন্ড পর, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীতে।


এর আগে, গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলো। এই ভূমিকম্পে শিশুসহ মোট ১০ জন নিহত হন এবং ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সবচেয়ে বেশি—পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে। এ ছাড়া ঢাকায় চারজন ও নারায়ণগঞ্জে একজন মারা যান। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন বা ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। এই ঘটনায় কিছু ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কিছু ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পে নিহত বাবা-ছেলেসহ পাঁচজনের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জেলার প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতাল থেকে শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আরএমও।

শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর থেকেই নরসিংদীবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় আরও দু'বার ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় সেই আতঙ্ক আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আবার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে অনেকেই ঘুমাতে পারেননি।

নরসিংদী শহরের হাজেরা টাওয়ারের বাসিন্দা গৃহবধূ শাহনাজ আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “শুক্রবার তীব্র ঝাঁকুনিতে ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে দৌড় দিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি বড়টা কান্না করছে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি, আবার ভূমিকম্প হওয়ার আতঙ্কে।”

পলাশ এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, "ভূমিকম্পের পর থেকে আমরা এখনো আতঙ্কের মধ্যেই আছি। মনে হলেই বুকের মধ্যে ধড়ফড় করে। রাতে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাতে পারি না।”

মালিতা এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, “এলাকায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যুর পর আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। সবাই মিলে সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি, কিন্তু আতঙ্ক কাটছে না।”

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, "শুক্রবার ও শনিবারের দু'টি কম্পনের উৎপত্তিস্থলও নরসিংদী। তাই সবাইকে আরেকটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে।”

পরপর দুই দিন ভূমিকম্প হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাতে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানায়।

জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় ভূমিকম্প হওয়ার পর ছাত্রী হলগুলোতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হন। আহতদের মধ্যে শামসুন নাহার হলের তিনজন, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের একজন ও রোকেয়া হলের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাত সদস্যের একটি দল পলাশসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ধসে পড়া মাটির নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে। মাটিতে ফাটল দেখা যাওয়া পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মেও যায় প্রতিনিধিদলটি। ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আ স ম ওবায়দুল্লাহ বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভূমিকম্পের ধরন ও গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পাশাপাশি, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। ফাটল ধরা সরকারি-বেসরকারি ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা চিহ্নিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষ হেলে পড়া বা ফাটল ধরা ভবন চিহ্নিত করতে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করেছে।

নরসিংদী পৌরসভার প্রশাসক মো. মনোয়ার হোসেন জানান, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ের কমিটি মোট ক্ষতির পরিসংখ্যান নির্ধারণ করবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.