ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে চাঞ্চল্যকর ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃতদের মধ্যে মামুনকে সরাসরি গুলি করা দুই ‘শুটার’ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর, মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম রাতে গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল ও কয়েকটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, আটককৃতদের মধ্যে ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক ও রবিন সরাসরি ১০টি গুলি চালিয়ে মামুনকে হত্যা করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েকজন সন্ত্রাসীকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। চিহ্নিতদের মধ্যে রনি ওরফে ভাইগ্না রনি, ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক, কামাল, জসিম, ইসহাক, রয়েল, ইব্রাহীম ও রুবেল অন্যতম। এদের কেউ সরাসরি গুলিবর্ষণকারী, আবার কেউ সহযোগী হিসেবে ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, আটককৃত ও চিহ্নিত এই পেশাদার সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদপুর, বছিলা, হাজারীবাগ ও পুরান ঢাকার বাসিন্দা। তারা বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর ভাড়াটে হিসেবে অপরাধমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়।
প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া প্রত্যক্ষভাবে হত্যায় যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মোহাম্মদপুর এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের হয়ে কাজ করে বলে অপরাধ জগতে আলোচনা রয়েছে। তবে, নিহতের পরিবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের হাত রয়েছে বলে গণমাধ্যমে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।
গত সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ফটকের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে বের হচ্ছিলেন।