পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম তারিক সাইফ মামুন (৫৫), যিনি ছিলেন একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, দুর্বৃত্তরা তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে।
গুলির ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, মামুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তখনই দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। মাত্র তিন থেকে চার সেকেন্ডের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। গুলি করার পর আক্রমণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মামুন একসময় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। তবে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত ব্যক্তির স্বজনের আহাজারি
মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার দাবি করেছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকেরাই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও জানান, এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
পুলিশ আরও জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও মামুন একসময় হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাঁদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তাঁরা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি।
-6911ce22cd5ec.jpg)
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, মামুনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এবং তাঁর জন্ম ১৯৭০ সালে।
রাজধানীর কোতোয়ালি থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াসিন জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি জানতে পেরেছেন, খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুজন ব্যক্তি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের প্রবেশমুখে এসে মামুনকে পেছন থেকে বেশ কয়েকটি গুলি করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর গুলি করা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক নিশ্চিত করেছেন, নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।