অবকাঠামো, জনবল ও গবেষণাগারের অভাব থাকায় সরকার দেশের ৬টি নতুন মেডিকেল কলেজ নিয়ে নানা চিন্তা করছেন। এরধ্যে কয়েকটি বন্ধ করার, কিছু নিকটবর্তী কোনো মেডিকেল কলেজের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। পরিকল্পনায় আছে কিছু মেডিকেল কলেজ টিকিয়ে রেখে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়। গত ৩ দিন আগে মন্ত্রণালয়ে এক সভায় এরকম নানা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সভায় কেউ কেউ কয়েকটি বন্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আর যদি বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠানো হবে নিকটবর্তী কোনো মেডিকেল কলেজে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা নাজমুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এই ৬টি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এসব মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো, জনবল ও গবেষণাগারের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভাব রয়েছে। কয়েকটি সদর হাসপাতাল বা সরকারি অন্য ভবনে চলছে ক্লাস বা কার্যক্রম। এ অবস্থায় ৬টি কলেজ নিয়ে নতুন করে নানা দিক ভাবছে সরকার।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং পরিকল্পনা-প্রস্তুতি ছাড়া আর কোনো মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয়া হবে না। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ আমলের প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপি ও আমলা এই ৬ মেডিকেল কলেজে স্থাপন করেছেন। জানা যায়, ২০১৮ সালে অনুমোদন পায় নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ। পরের বছর সদর হাসপাতালের কয়েকটি কক্ষে শুরু হয় ক্লাস। এখনও চলছে জোড়াতালি দিয়েই। এরপরও গত বছর আসন সংখ্যা ৫০ থেকে ৭০ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে নেই রেজিস্ট্রার বা সাব রেজিস্ট্রার। সেই সঙ্গে রয়েছে শিক্ষক সংকট। খণ্ডকালীন শিক্ষকেরা এসে এখানে ক্লাস নিচ্ছেন। এ ছাড়া কলেজের গবেষণাগারে নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। এ কারণে বইয়ের ওপরই নির্ভরশীলতা থাকতে হচ্ছে। কোনো কিছুই হাতে-কলমে শিখতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
চাঁদপুর মেডিকেলের জমি অধিগ্রহণই শেষ হয়নি। কিন্তু কলেজ চলছে ছয় বছর ধরে। সদর হাসপাতালের মাত্র আটটি কক্ষেই চলছে এই কলেজ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, চাঁদপুর মেডিকেলের স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের জায়গার সংকুলান হয় না। এক ব্যাচের ক্লাস চলাকালীন অন্য ব্যাচ দাঁড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া এ কলেজের নেই কোনো নিজস্ব হোস্টেল। একটা ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা ও হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অবস্থাও একই। ৬টি মেডিকেলই তৈরি হয়েছে কোনো পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া।