আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গিকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ কনভেনশনের (এফসিটিসি) আলোকে বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ছয়টি ধারা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার (২১ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত ‘২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক’ এক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ হার্ট ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলা হয়, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল এ্যাডাল্ট ট্যোবাকো সার্ভের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে থাকেন। যার ৪৬ শতাংশ পুরুষ এবং ২৫ দশমিক ২ শতাংশ মহিলা। তামাক ব্যবহারের মাঝে ১৮ শতাংশ ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া এই ধূমপায়ীদের কারণে আরও ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ কর্মক্ষেত্রে ও পাবলিক প্লেসে ও পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়।
যে ৬ টি ধারা শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে-
১. বর্তমান আইনের ধারা ৪ ও ৭ বিলুপ্ত করা। অর্থাৎ সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে "ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (ডিএসএ)” নিষিদ্ধ করা।
২. তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা।
৩. তামাক কোম্পানির যে কোনো ধরণের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।
৪. ই-সিগারেটের মতো এমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসমূহ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।
৫. তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট অথবা কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।
৬. বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন এবং খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) যৌথ আয়োজনে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, বিএইচআরএফের সভাপতি রাশেদ রাব্বি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা।