অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্করে পদে পদে ঠকছেন ক্রেতা। কষ্টের আয়ে থলে ভরে বাসায় ফিরছেন ‘বিষ’ কিনে। শুধু তাই নয়, কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়েও গছিয়ে দিচ্ছে ভেজাল কিংবা নিম্নমানের পণ্য। হররোজ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য হাজির হচ্ছে নতুন মোড়কে। ব্যবসায়ীদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে শহরকেন্দ্রিক যা দু-একটি অভিযোগ ভোক্তারা দিচ্ছেন; কিন্তু যথাযথ প্রতিকার পাচ্ছেন না ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার প্রতিষ্ঠান থেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় নীতি, বিধিবিধান, প্রশাসনিক কাঠামো– সবকিছু এখন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। তারা নানা কৌশলে প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের পকেট কাটছেন। বিপরীতে ভোক্তার স্বার্থ দেখভালের একমাত্র সক্রিয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হাত-পা যেন বাঁধা আইনের ফাঁকফোকরে।
দিন দিন অভিযোগের পাহাড় জমলেও সংস্থাটি অভিযানে যেতে পারে না লোকবল সংকটে। আবার বিদ্যমান আইনে ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকম, বাড়িভাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। এসব খাতে প্রতারিত হলেও ভোক্তার সামনে খোলা নেই প্রতিকার চাওয়ার কোনো পথ।
অবশ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোক্তার স্বার্থেই আইনে কিছু সংস্কার প্রক্রিয়াধীন। বিদ্যমান আইনে আরও পাঁচটি সেবা খাত যুক্ত হবে। জনবল সংকট নিরসনেও সৃষ্টি করা হবে নতুন পদ
এমন প্রেক্ষাপটে আজ শুক্রবার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য– ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি, ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি’।
২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও অধিকার লঙ্ঘনজনিত বিরোধ নিষ্পত্তি, ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, পণ্য ও সেবা ক্রয়ে প্রতারণা রোধ এবং গণসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন হয়। এরপর গত দেড় দশকে শহরকেন্দ্রিক অধিদপ্তরের কার্যক্রমে কিছু সুফল মিললেও বঞ্চিত রয়ে গেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। আবার আইনের সীমাবদ্ধতার কারণেও সুরাহা হচ্ছে না অনেক মামলা। কারণ আইনে বলা আছে, ভোক্তা প্রতারিত হলে মামলা করতে পারবেন। কিন্তু কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে মামলা করবেন, সুস্পষ্টভাবে আইনে বলা নেই। তা ছাড়া দেড় দশকে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বদলে গেলেও আইনে এসব অপরাধবিষয়ক ধারা যুক্ত না হওয়ায় অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।