ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ নেতার অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: গ্রাফিক্স
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ নেতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের ফলে বাজেয়াপ্তকৃত বিপুল পরিমাণ সম্পদ জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবার এবং চিকিৎসাধীন ও পঙ্গুত্ববরণকারী আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টন করা হবে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। পলাতক সাত আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বাজেয়াপ্ত যোগ্য অর্ধেকেরও বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ নির্বাচনী হলফনামা সূত্রে সামনে এসেছে।
সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনাল এর আগেও অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নজির স্থাপন করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়েও তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্যান্য বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচনী হলফনামার হিসাব অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদেরের ঘোষিত মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে উত্তরা ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের গুলশানের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার মিলিয়ে ঘোষিত সম্পদ রয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। তবে যুবলীগের সাবেক প্রধান শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাঁর সম্পদের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
আইনজ্ঞদের মতে, পলাতক আসামিদের সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার ও সামাজিক ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে এক অনন্য মাত্রা যোগ করল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
