নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় করা চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য পাওনা অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাগারে পাঠানো নয় বলে যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড একটি অত্যন্ত কঠোর সাজা এবং বিশেষ ও উপযুক্ত পরিস্থিতি ছাড়া কেবল অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে এই সাজা দেওয়া উচিত নয়। বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলার এক রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দেন, যার পূর্ণাঙ্গ লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত লিখিত রায়ে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায়ে আসামিকে দেওয়া ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করে শুধু অর্থদণ্ড বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে চেকের বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আগামী তিন মাসের মধ্যে বাদীকে পরিশোধের নির্দেশ নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে, তবে এতেও তিনি অর্থ পরিশোধের আইনি দায় থেকে মুক্তি পাবেন না।
রায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, "এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো গঠনমূলক বা শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। 'আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র' মামলার নজিরের নীতির সঙ্গে এই আদালত সম্পূর্ণ একমত যে, এসব মামলার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো পাওনা টাকা পুনরুদ্ধার করা, আসামিকে বন্দি রাখা নয়।"
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য নেওয়া ৫ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধে আসামি মো. আলাউদ্দিনের দেওয়া রূপালী ব্যাংকের একটি চেক ২০২০ সালের নভেম্বরে তহবিল সংকটে ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা প্রক্রিয়ার পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আলাউদ্দিনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। আসামি নিয়মানুযায়ী অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) জমা দিয়ে আপিল করলেও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তা খারিজ করে দিলে তিনি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।
উচ্চ আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাজা সংশোধন করে রিভিশন রুলটি নিষ্পত্তি করেন। বিচার বিভাগীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের ফলে এখন থেকে বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত চেক ডিজঅনার মামলায় কেবল অহেতুক কারাদণ্ডের বদলে পাওনাদারের অর্থ ফেরত পাওয়ার আইনি পথ আরও সুগম ও সহজতর হবে।