ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের প্রশ্নে রুল জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নির্ধারণ ও নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল প্রদান করেন। আজ বুধবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী। গ্রাম আদালতে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারিক ক্ষমতার সঙ্গে প্রচলিত আইনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকাকে সাংঘর্ষিক ও সংবিধান পরিপন্থী উল্লেখ করে এ রিট দায়ের করা হয়।
২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে প্রণীত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৬ ধারায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার কথা বলা থাকলেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ নেই। রিটকারীদের মতে, এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কোনোপ্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন, যা সংবিধানের ৭(এ), ১১, ২৭, ২৮, ২৯, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে পরিপন্থী।
এ বিষয়ে রিটের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী কাজী ফেরদৌসুল হাসান আদালতকে জানান, "বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে বিচারকদের নিয়োগ পেতে অন্তত আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা করতে পারেন, যা ২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইনের অধীনে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের অর্থদণ্ড প্রদানের ক্ষমতার সমপর্যায়ের। বিচারিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান পদের জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা স্পষ্টতই স্বেচ্ছাচারী এবং চেয়ারম্যানকে তাঁর আইনগত দায়িত্ব পালনে অযোগ্য করে তোলে।"
আদালতের দেওয়া রুলে ২০০৯ সালের ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী কাজী ফেরদৌসুল হাসান ও মো. রুহুল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।
হাইকোর্ট নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে যদি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য স্নাতক পাসের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার নির্দেশ আসে, তবে তা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও মাঠপর্যায়ের বিচারিক প্রশাসনিক দক্ষতায় এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
