স্ত্রী মারিয়া হত্যায় অভিযুক্ত ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার স্বামী সাইফুল ইসলাম। ছবি: সৌজন্যে খিলগাঁও থানা
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানের একটি বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রাতেই নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলাম (২১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে মারিয়াকে গলায় পাটের সুতলি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাইফুল।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় দক্ষিণ গোড়ানের হাজী মসজিদের সামনের ৪০৯ নম্বর বাসার রান্নাঘরের পাশের বারান্দা থেকে মারিয়ার অচেতন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আজ শনিবার সকালে নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, "মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটির স্বামী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাইফুলের বাবা-মাকে নিয়ে সাংসারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।"
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মো. মহসিনের মেয়ে মারিয়ার সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে সাইফুলের বিয়ে হয় এবং গত আট মাস ধরে তাঁরা এই বাসায় বসবাস করছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মারিয়া টিউশনি করে সাইফুলকে সংসারের খরচ চালাতে বড় ভূমিকা রাখতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারিয়ার ভাই চান মিয়া বলেন, "শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মারিয়ার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। পরে মারিয়ার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। সে অনুযায়ী আমরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিই।"
খিলগাঁও থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ইতিমধ্যেই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না। তা নিশ্চিত হতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
