নারায়ণগঞ্জের কুশাবো এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুর থেকে ডুবুরিদের সহায়তায় উদ্ধার করা সিমেন্ট ঢালাইকৃত সেই লোহার ড্রাম। যার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ। পিবিআইর সৌজন্যে
একটি মুঠোফোন কল আর নছিমনচালকের দেওয়া সূত্রের ওপর ভিত্তি করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী হেকমত আলী (৪৫) নিখোঁজের রোমহর্ষক ও ক্লুলেস হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ তিন মাস পর গত ২ জুলাই ২০২০ সালে কুশাবো এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরের তলদেশ থেকে সিমেন্টে ঢালাই করা একটি লোহার ড্রাম কেটে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ, লভ্যাংশ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে দূরসম্পর্কের ভাগনে রফিকুল ইসলাম সবুজ তাঁর বাবা ও ভাইদের সহায়তায় হেকমতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুমের এই নৃশংস পরিকল্পনা করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পিবিআই।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল রূপগঞ্জের কালাদীর নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী হেকমত আলী। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগম রূপগঞ্জ থানায় মামলা করলেও থানা-পুলিশ কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। অবশেষে ১৫ জুন মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর পিবিআই নিখোঁজের রাতে প্রধান সন্দেহভাজন রফিকুলের মুঠোফোনের কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে এক নছিমনচালকের সন্ধান পায়।
ঐ নছিমনচালকের দেওয়া জবানবন্দিতে প্রথমবারের মতো সামনে আসে একটি রহস্যময় ভারী ড্রামের গল্প। সেই সূত্র ধরে আদালতের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম সবুজকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয় পিবিআই। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে রফিকুল স্বীকার করেন। পাত্রী দেখার কথা বলে হেকমতকে বাড়িতে ডেকে এনে দুপুরে ঘুমের মধ্যে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশটি যাতে কোনোদিন ভেসে না ওঠে। সেজন্য সেটিকে খালি ড্রামে ভরে বাড়িতে থাকা সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রফিকুলের দেখানো স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুশাবো এলাকার লিচু ফ্যাক্টরি সংলগ্ন মাছের ঘেরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নামানো হয়। প্রায় তিন মাস ধরে পানির নিচে থাকা ভারী ড্রামটি টেনে তোলার পর লোহা কাটার যন্ত্র দিয়ে মুখ খুলতেই বেরিয়ে আসে ব্যবসায়ী হেকমতের অর্ধগলিত মরদেহ। এই হত্যাকাণ্ডে রফিকুলের বাবা ইয়াকুব হোসেন এবং দুই ভাই মাহফুজুর ও মামুন সরাসরি জড়িত ছিলেন।
পিবিআইয়ের তৎকালীন প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, "অপরাধীরা মনে করেছিল। মরদেহ এভাবে সিমেন্ট ঢালাই করে গুম করলে হত্যার সব চিহ্ন মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিখুঁত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে আমরা কেবল মরদেহ উদ্ধারই করিনি। পুরো জঘন্য পরিকল্পনাটি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি।"
নৃশংস এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁর ভাই মাহফুজুর রহমানকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
