আদালত। প্রতীকী ছবি
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় (৬ কার্যদিবসে) দুই প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সরকারের আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে ‘ডেথ রেফারেন্স’ ও ‘পেপারবুক’ প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দ্রুততর করে সাজা কার্যকরের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ রোববার ঘোষিত বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসের নজিরবিহীন এই দ্রুততম রায়ের পর, এখন উচ্চ আদালতে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কত দিনে এটি কার্যকর হবে তা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, "এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আইনের প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে মেনে মাত্র ৬ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় দ্রুত বহাল ও কার্যকর থাকে, সেজন্য আমরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করব।"
আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে মামলার নথিপত্র বা ‘ডেথ রেফারেন্স’ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে মামলার যাবতীয় তথ্য নিয়ে ‘পেপারবুক’ প্রস্তুতের পর ধারাবাহিকতা অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি এড়াতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সরাসরি প্রধান বিচারপতির বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "বিচারিক আদালতের নথি হাইকোর্টে আসার পরপরই আমরা দ্রুততম সময়ে শুনানির ব্যবস্থা করব। বিশেষ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি করে আপিল নিষ্পত্তির সব ধরনের আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
তদন্তের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ে সংগ্রহ করে আদালতে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করেছিল পুলিশ প্রশাসন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স যেন শুনানির তালিকায় এগিয়ে আনা যায়, আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে সেই নিবেদন রাখব।"
অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে আদালত আসামিদের কোনো অনুকম্পা দেখায়নি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত ডিফেন্স কাউন্সিলর মুসা কালিমুল্যাহ-ও রায়ের যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, "এই বিচার একটি নজির হয়ে থাকবে। মানুষ এখন বুঝবে যে এমন জঘন্য অপরাধ করে আর পার পাওয়া সম্ভব নয়।"
সাত বছরের শিশু রামিসাকে গত ১৯ মে সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। মামলার রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্ন খাতুনকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও সম্পূর্ণ তৃপ্তি এখনো পাননি রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
আদালত প্রাঙ্গণে অশ্রুভেজা চোখে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি রায়ে সন্তুষ্ট। তবে এই রায় যখন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে, তখন আমি একশ পার্সেন্ট সন্তুষ্ট হব। পুলিশ, মিডিয়া, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশের মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি চাই দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর হোক, যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
