রামিসা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দেশজুড়ে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও আইনি তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর আদালত এই ঐতিহাসিক মামলার রায় প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।
আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। আসামি স্বপ্না হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে, পৌনে ১২টায় ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। এ সময় চাঞ্চল্যকর এই মামলার আইনি লড়াই দেখতে আদালত কক্ষে আইনজীবী ও সংবাদকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করে। অন্যদিকে ডিএনএ পরীক্ষা না হওয়া এবং সিসিটিভি ফুটেজের অনুপস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসামিদের খালাস দাবি করে আসামিপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে বলেন, "সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, রক্তের আলামত এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ আসামিদের অপরাধের স্পষ্ট সাক্ষ্য দেয়। আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করছি।"
বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, "এই মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং আশপাশের কোনো সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেনি পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে বিধায় আমরা আসামিদের খালাস দাবি করছি।"
এর আগে গত ২ জুন আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে ছিলেন নিহতের বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ম্যাজিস্ট্রেট। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি সোহেল রানা বিচারকের সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, "আমিও দোষ করছি... আমাকেও সাজা দেন।" তবে সে তার স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে। অন্যদিকে আলামত গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা চান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু সহিংসতা দমনে এই মামলার রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় আগামী রোববার আদালত কী রায় দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ পুরো দেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
