রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)। শুক্রবার (২৩ মে) ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। গত ১৯ মে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকার আইনি অঙ্গনের সবচেয়ে বড় সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্তকে সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির হিসেবে দেখছেন আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। মামলার এজাহারভুক্ত আসামির পক্ষে কোনো সদস্য অংশ না নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে লিখেছেন, "ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে আইনি লড়াই বা মামলা পরিচালনা করবেন না।"
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা। পথিমধ্যে ঘাতক সোহেল রানা কৌশলে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ঘাতকের ঘরের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রাখলেও মূল অপরাধী সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজধানীসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছিল। ঢাকা বারের আইনজীবীদের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। এই আইনি বয়কট অপরাধ দমনে দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।