সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)
বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না—মুসলিম পারিবারিক আইনের এই বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন ও জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, বিদ্যমান স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিশি কাউন্সিলের সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের এই ধারায় বলা হয়েছে। বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে নির্ধারিত ফি-সহ আবেদন করতে হবে। সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায়সঙ্গত কারণগুলো খতিয়ে দেখে অনুমতি প্রদান করবে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রীর দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেন। তার যুক্তি ছিল, বর্তমান আইনে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ও সমতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয় না। তবে শুনানি শেষে আদালত রুলটি খারিজ করে দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, রিটটি জনস্বার্থে করা হলেও বর্তমান আইনে প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। সালিশি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সহকারী জজের কাছে রিভিশন আবেদনের সুযোগ আছে এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট করার পথও খোলা। এছাড়া বিনা অনুমতিতে বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর দেনমোহর প্রাপ্তি সুনিশ্চিত করা এবং সাজার বিধান সমাজে সচেতনতা তৈরি করবে।
ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
রায়ে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ৩ নম্বর আয়াত ও বিভিন্ন হাদিসের (বুখারি ও মুসলিম শরিফ) প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, ইসলামি আইন অনুযায়ী পুরুষদের জন্য শর্তসাপেক্ষে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ নয়, তবে সব স্ত্রীর সমান মর্যাদা ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে না পারলে একটি বিয়ে করাই শ্রেয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, তুরস্ক ও তিউনিসিয়ার মতো মুসলিম দেশগুলো বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে বর্তমান আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে রায়ে ঘোষণা করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান জানিয়েছেন, নারীদের অধিকার ও পারিবারিক সুরক্ষার স্বার্থে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
