ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) পরিকল্পনা ও সরাসরি নির্দেশনাতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্নধর্মী ধারার সূচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল দলটির নেতা-কর্মীরা। মূলত তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও সমালোচনা থামিয়ে দিতেই কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশে এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্ত সংস্থা জানায়, ঘটনার মূল শুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী যুবলীগ কর্মী আলমগীর বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও প্রধান তিনজনসহ ৫ জন এখনও পলাতক। ডিবি প্রধান জানান, আসামিদের ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী দুজনকে মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে পূর্বের তথ্যটি সঠিক।
সম্প্রতি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম বিদেশ থেকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, "ফয়সালের ভিডিও বার্তাগুলো ফরেনসিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ ভিডিওগুলো আসল। তবে তিনি দুবাইয়ে থাকার যে দাবি করেছেন তা সঠিক নয়; আমাদের তথ্য অনুযায়ী তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন।"
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ডিবি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার রিপোর্ট 'পজিটিভ' এসেছে, যা আসামিদের অপরাধ প্রমাণের অন্যতম শক্তিশালী দলিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে।
বিষয় : শরিফ ওসমান হাদি পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
