ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ‘মব’ বা গণপিটুনির নাটক সাজিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
নিহত নাঈমের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম জানান, নাঈমের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক একটি হত্যা মামলা থাকায় তিনি পাবনার কর্মস্থলে যেতে পারছিলেন না। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে ১০ দিন আগে তিনি ঢাকায় আসেন। রাকিবুলের দাবি, “তিন দিন আগে পাবনায় নাঈমদের গ্রামের বাড়িতেও হামলা হয়েছিল। ঢাকায় আসার পর থেকেই তাঁকে কেউ অনুসরণ করছিল।”
‘মব’ সৃষ্টি ও নৃশংসতা
গত বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১০ নম্বর সড়কে নাঈমকে বহনকারী গাড়ির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই লোক জড়ো করে ‘মব’ তৈরি করা হয়। এরপর নাঈমকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাকিবুল ইসলাম একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, নাঈমের সঙ্গে একই মামলার আসামি আরও তিনজনের ওপর মাস ছয়েক আগে মিরপুরে একইভাবে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল। সেইবার সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করলেও এবার নাঈমকে প্রাণ দিতে হলো। পরিবারের সন্দেহ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে এই ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির কৌশল ব্যবহার করছে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক জানান, পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তারা গ্রেপ্তার হলে স্পষ্ট হবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো হামলা।”
শুক্রবার পাবনা সদর উপজেলার চক জয়েনপুর মডেল মসজিদে জানাজা শেষে বালিয়াগাট কবরস্থানে নাঈমকে দাফন করা হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা গোলাম কিবরিয়া ও মা আইরিন কিবরিয়া এখন শোকে পাথর। একজন উদীয়মান আইনজীবীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।