× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কেন হামাস নেতা হানিয়াকে হত্যা করা হল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

৩১ জুলাই ২০২৪, ১৩:১৩ পিএম । আপডেটঃ ৩১ জুলাই ২০২৪, ১৩:২১ পিএম

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ে | ছবি—সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া হত্যার ঘটনায় যেসব প্রশ্ন উঠছে তা হল-এ হত্যাকাণ্ড কি ইসরায়েলের চালানো অভিযানে ঘটেছে,যেমনটি সবাই ধারণা করছে।কেন এই অভিযান চালানো হল?

হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে মোক্ষম বদলা নেওয়ার আকাঙ্খা ছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল কি অর্জন পাওয়ার আশা করেছিল?

এই অঞ্চলে অনেকেই এমন ঘটনার ক্ষেত্রে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে থাকেন, তারই প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্ক। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, হানিয়া হত্যা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনও অভিপ্রায় নেই।

রামাল্লায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষও হানিয়া হত্যায় হতাশা প্রকাশ করেছে। ফাতাহ’র ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সাধারণ সম্পাদক সাবরি সাইদাম বিবিসি-কে বলেছেন, “এই হত্যাকাণ্ড নরকের দ্বার খুলে দিচ্ছে।”

ফিলিস্তিনের হামাস এবং ফাতাহ বহু দিন ধরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল। কখনও কখনও তারা নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াইও লড়েছে। কিন্তু হামাস নেতা হানিয়ার মৃত্যুতে ফাতাহর কোনও সুবিধা হতে পারে এমন কথা দৃঢ়ভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছেন সাইদাম।

তার মতে, ইসরায়েল কেবল হানিয়াকেই হত্যার নিশানা করেনি বরং এ অঞ্চলের যে কোনও বসতির প্রাণকেই হামলার নিশানা করেছে। তারা বৈরিতা অবসানের সব আশা-আকাঙ্খাকে হত্যা করেছে।

পশ্চিম তীরের শাসনক্ষমতায় আছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। হানিয়া হত্যার প্রতিবাদে পুরো পুশ্চিম তীর এবং রামাল্লায় ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ হয়েছে। শুরু হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল। রামাল্লায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের জন্য যা কিছুটা বিব্রতকর হতে পারে।

সর্বসাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছিল, ইসমাইল হানিয়া ফিলিস্তিনের বয়স্ক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। হানিয়া মূলত থাকতেন কাতারে। তিনি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে গিয়ে গুপ্তহত্যার শিকার হন।

এই সময়ে হানিয়াকে হত্যা করার কারণ হচ্ছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তাদের নাগাল থেকে কেউ পার পাবে না।

লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হামলায় দুদিন আগেই ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভুমিতে ১২ শিশু-কিশোর নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল এর কঠোর পাল্টা জবাবের যে হুমকি দিয়েছিল, তার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই হানিয়ার ওপর এ সময়টিতে হামলা হয়েছে।

ইসরায়েলের কর্মকর্তারা প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে ‘প্রতিরোধের অক্ষশক্তির’ সংযোগস্থল হিসাবে ইরানের নাম নিয়ে থাকেন। যে অক্ষশক্তিতে আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজা ও পশ্চিম তীরের হামাস আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

ইসরায়েল মঙ্গলবারই বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যা করার দাবি করেছে তারা। আর এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানে হামাস নেতা হানিয়া নিহত হওয়ার খবর আসে।

সুতরাং, লেবাননে হিজবুল্লাহকে ধাক্কায় ফেলে (সম্প্রতি হোদাইদায় হুতিদের ওপরও ইসরায়েলি হামলা হয়েছে) এবং তারপর ইরানে হামাস নেতা হানিয়াকে হত্যা করে ইসরায়েল গাজার এ গোষ্ঠীটি এবং তাদের ইরান-সমর্থকদের এই শিহরণ জাগানো বার্তাই দিয়েছে যে, তারা চাইলে তাদের শত্রুরা যেখানেই থাকুক, সেখানেই তাদের ওপর হামলা চালাতে পারবে এবং চালাবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.