× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ট্রাম্পের রানিং মেট ভ্যান্সের জীবনে ‘ধ্রুবতারা’ ঊষা চিলুকুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ জুলাই ২০২৪, ১৬:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৩ সালে ‘শ্বেতাঙ্গ আমেরিকায় সামাজিক অবক্ষয়’ শীর্ষক এক অধ্যয়ন গোষ্ঠী (স্টাডি গ্রুপ) আয়োজন করেছিল কানেটিকাট রাজ্যের ইয়েল ল স্কুল। আয়োজক ছিলেন দুই শিক্ষার্থী। তাদের একজন বেড়ে উঠেছিলেন ওহাইওর গরিব এলাকায়, যার মা ছিলেন মাদকাসক্ত, বাবা পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। দাদা-দাদীর কাছে যার বেড়ে ওঠা, সেই শিক্ষার্থীটিই ছিলেন জে ডি ভ্যান্স; আজ যিনি ওহাইওর সেনেটর।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে যাকে সদ্যই রানিং মেট অর্থাৎ, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আর ইয়েল স্কুলের সেই অধ্যয়ন গোষ্ঠীর অপর শিক্ষার্থীটি ছিলেন ঊষা চিলুকুরি ভ্যান্স, যিনি ভারতীয় হিন্দু অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান। সেইসময় ঊষা ছিলেন জে ডি ভ্যান্সের প্রেমিকা, আজ তিনি তার স্ত্রী।

জেডি ভ্যান্সের জীবনে ‘ধ্রুবতারা’ হয়ে এসেছেন এই ঊষা চিলুকুরি। সেই ইয়েল ল স্কুল থেকে সেনেট পর্যন্ত জে ডি ভ্যান্সের জীবনযাত্রার প্রতিটি স্তরে, তা আধ্যাত্মিক কিংবা রাজনৈতিক-যাই হোক না কেন, স্ত্রী ঊষাই ছিলেন অনুপ্রেরণা। সেকথা নিজেই স্বীকার করেছেন ভ্যান্স।

ঊষার সঙ্গে প্রথম দেখাতেই ভ্যান্স হয়েছিলেন অভিভূত। তার গুণাবলীতে হয়েছিলেন মুগ্ধ। ভ্যান্স এ সম্পর্কে তার স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলেজি’তে লিখেছেন, “বৈশিষ্ট্যগতভাবেই তাকে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল সব ইতিবাচক গুণ, যা একজন মানুষের থাকা দরকার। তিনি ছিলেন প্রতিভাবান, কঠোর পরিশ্রমী, লম্বা আর সুন্দরও।”

ভ্যান্সের এই বইটি ২০১৬ সালে সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের তালিকায় স্থান পায়। ২০২০ সালে রন হাওয়ার্ডের পরিচালনায় এই স্মৃতিগ্রন্থ অবলম্বনে সিনেমাও তৈরি হয়।

৩৯ বছর বয়সী ভ্যান্স বলেছেন, তিনি স্ত্রী উষাকে তার ‘ইয়েল তাত্ত্বিক গুরু’ মনে করেন। ভ্যান্স প্রথমে একজন প্রটেসট্যান্ট হলেও ২০১৬ সালে তিনি ক্যাথলিক ধর্মে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। স্ত্রী ঊষার কারণেই তিনি ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিলেন।

জে ডি ভ্যান্সের কথায়, তিনি জন্মগতভাবে খ্রিস্টান হলেও কখনও ধর্মপালন করেননি। ২০১৮ সালে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মানতে শুরু করেন। স্ত্রী ঊষা তাকে ধর্মানুরাগী হতে সহায়তা করেছিলেন।

২০২০ সালে মেগিন কেলি শো পডকাস্টে ভ্যান্স বলেছিলেন, ‘ঊষা আমাকে নিশ্চিতভাবেই একটু একটু করে বাস্তবে ফিরিয়ে এনেছে। আমি কিছুটা অহংকারী হয়ে উঠলে বা নিজেকে নিয়ে সামান্য গর্বিত হলে কেবল নিজেকে একথা মনে করিয়ে দিই যে, সে (ঊষা) আমার চেয়ে অনেক বেশি কিছু অর্জন করেছে।”

ঊষার মতো একজন জীবনসঙ্গী পেয়ে কতটা সৌভাগ্যবান সেকথাও মেগিন কেলি শো’তে বলেছিলেন ভ্যান্স। ঊষাকে তিনি বর্ণনা করেছিলেন একজন ‘প্রভাবশালী নারী’ হিসাবে।


কে এই ঊষা চিলুকুরি?

ঊষা পেশায় আইনজীবী। চিলুকুরি পরিবার আদতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সান দিয়েগোতে বড় হয়েছেন ঊষা। তার বাবা ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মা বায়োলজিস্ট।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক হওয়ার পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন ঊষা। পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। ইয়েল জার্নাল অব ল অ্যান্ড টেকনোলজির সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

কাজ করেছেন ইয়েল ল জার্নালের ডেভেলপমেন্ট এডিটর হিসাবেও। এর পর কেমব্রিজে গেটস ফেলো হিসেবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান। কেমব্রিজে থাকার সময় বিভিন্ন বামপন্থি ও উদারপন্থি দলের সঙ্গে ঊষার যোগাযোগ ছিল। সে সময় খাতায়কলমে ডেমোক্র্যাট হিসাবে পরিচিতি ছিল তার।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের অধীনেও কাজ করেছেন ঊষা। ইয়েল ল স্কুলে পড়ার সময়ে ভ্যান্সের সঙ্গে ঊষার আলাপ-পরিচয়ের পর ২০১৪ সালে কেন্টাকি শহরে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি মেনেই। ৬, ৪ এবং ২ বছরের তিন সন্তান রয়েছে তাদের।

স্বামীর উন্নতিতে অবদান:

আড়ালে থেকে স্বামী জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক জীবনের উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন স্ত্রী উষা চিলুকুরি। ওহাইওর সেনেট পদপ্রার্থীতার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ভোট দলে টানতে ঊষা ভূমিকা রাখেন।

এর আগে ইয়েল ল স্কুলে থাকার সময় ‘শ্বেতাঙ্গ আমেরিকায় সামাজিক অবক্ষয়’ বিষয়ক প্রকল্পে ভ্যান্সের চিন্তাভাবনাকে ঊষা এমনভাবে বিকশিত করেছিলেন যে, পরে ভ্যান্স স্মৃতিগ্রন্থ ‘হিলিবিলি এলেজি’ লেখার অনুপ্রেরণা পান। আর সেই স্মৃতিকথাই তাকে এনে দেয় খ্যাতি।

অনেকেই বলেন, ঊষা তার গোটা জীবনটাকেই সফল হওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছেন। তিনি ছিলেন ভ্যান্সের চালিকাশক্তি। আর এখন ভ্যান্স রাজনৈতিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসতে চলেছেন। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার ভাল সম্ভাবনা আছে। বিশেষত ট্রাম্প হত্যাপ্রচেষ্টা থেকে বেঁচে ফেরার পর সে সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।

ভ্যান্সের এই অগ্রযাত্রায় বলতে গেলে স্ত্রী ঊষার কাজ কেবল শুরু হল। অন্য যে কোনও সময়ের তুলনায় স্ত্রীর দক্ষতাই ভ্যান্সের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।


কমলা হ্যারিসের পর আরেক ভারত যোগ:

এখন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আছেন, সেই কমলা হ্যারিস ভারতীয় বংশোদ্ভূত। আর ওহাইওর প্রথমবারের সেনেটর ভ্যান্স যদি নির্বাচিত হন, তাহলে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভারতের যোগ থাকার ধারা অব্যাহত থাকবে তার ভারতীয় বংশোদ্ভুত স্ত্রী ঊষার কারণে।

ঊষা চিলুকুরি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ভারত সম্পর্কে সবকিছু জানেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক পরিচালনায়ও তিনি তার স্বামীকে সাহায্য করতে পারবেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.