ইরানে শেষ হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। চলছে ভোট গণনা। এখন পর্যন্ত এই নির্বাচনে সংস্কারপন্থি নেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান এগিয়ে আছেন বলে শনিবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স খবরে জানায় পেজেশকিয়ানের পরেই রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অনুগত সাঈদ জালিলি।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৮ জুন) থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভোট গণনা হয়েছে। তার মধ্যে সংস্কারপন্থি মাসুদ পেজেশকিয়ান পেয়েছেন ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ভোট। অন্যদিকে, কট্টোরপন্থি নেতা সাঈদ জালিলি পেয়েছেন ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ভোট।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শীর্ষে থাকা দুই প্রার্থীর কেউ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় রান-অফ ভোটের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, আগামী ৫ জুলাই রান-অফ ভোট গ্রহণ করা হবে আর এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
কে এই মাসুদ পেজেশকিয়ান
জানা যায়, মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম প্রধান প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি একজন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য। পেজেশকিয়ান একজন অভিজ্ঞ হার্ট সার্জন যিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। পেজেশকিয়ান প্রধানত সংস্কারপন্থী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। যদিও আগের নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি। এবার ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ান স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন এবং মহসা আমিনির মৃত্যু নিয়ে সরকারি আচরণের সমালোচনা করেছেন। যা তাকে জনগণের মধ্যে আরো জনপ্রিয় করেছে। পেজেশকিয়ানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো- কঠোরপন্থী প্রার্থীদের মোকাবিলা করা এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়া।