ইসরায়েলের ‘সহিংস উগ্রপন্থী’ একটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় অনাহারে থাকা মানুষদের জন্য নিয়ে যাওয়া সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া এবং ত্রাণসামগ্রী নষ্ট করার অভিযোগে ইসরায়েলের ওই সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
ইসরায়েলি উগ্রপন্থী সংগঠনটির নাম ‘সাভ-৯’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন শুক্রবার সংগঠনটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সংগঠনটির সদস্যরা ত্রাণবাহী ট্রাকে লুটপাট চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট যেন আরও খারাপ না হয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি কমাতে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, মাসের পর মাস ধরে সাভ-৯ এর লোকেরা বারবার গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহ ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা রাস্তা অবরোধ করেছে। কখনও কখনও সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। জর্ডান থেকে গাজায় ত্রাণ পরিবহনে বাধা দিয়েছে তারা। পশ্চিম তীরের ট্রানজিটেও তারা বাধা সৃষ্টি করেছে। ত্রাণবাহী ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং জীবনরক্ষাকারী মানবিক ত্রাণ রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনটির সম্পদগুলো জব্দ করা হবে। তাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের লেনদেন অনেকাংশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাইডেনের একটি নির্বাহী আদেশের আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি সংগঠন লায়ন’স ডেনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এ সময় ২৫০ জনকে জিম্মি করেন হামাস সদস্যরা।
এর প্রতিশোধ নিতে হামাসকে নির্মূল করার কথা বলে গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মাসের বেশি হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজার ২৩ লাখ মানুষের অধিকাংশই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।