কিরগিজস্তানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে স্থানীয়রা। এই সংকট পরিস্থিতিতে ভারতীয় ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষে বলা হয়েছে, ‘কিরগিজস্তানে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তাদের আপাতত বাড়িতেই থাকতে বলা হচ্ছে। কোনো সমস্যা হলে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
পাকিস্তানের কিরগিজস্তান কনস্যুলেট এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছে, এখন পর্যন্ত, বিশবেকের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হোস্টেল এবং পাকিস্তানিসহ আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলা হয়েছে। হোস্টেলে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বাস করে। পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ছাত্রের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে শেহবাজ শরিফ লিখেছেন, ‘কিরগিজস্তানের বিশকেকে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে’।
সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, হামলায় তিন পাকিস্তানি ছাত্র নিহত হয়েছে, তবে সে দেশের সরকার বলেছে, তারা এখনও কোনো মৃত্যুর রিপোর্ট পায়নি। পাকিস্তানের দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৩ মে কিরগিজ ও মিশরীয় শিক্ষার্থীদের ঝামেলা বাঁধে, তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভারত,পাকিস্তানসহ একাধিক দেশের শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা করা হয়। পাকিস্তানের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছে। কিরগিজস্তানে প্রায় ১০ হাজার পাকিস্তানি শিক্ষার্থী রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কিরগিজস্তানে ভারতীয় ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার বলে অনুমান করা হয়। তাদের মধ্যে কতজন বিশকেকে আছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও জানিয়েছেন, বিশকেকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যাতে সুরক্ষিত থাকেন, তার জন্য পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে।