যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলকে আরও ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রণেতাকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আর মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। তবে কত দ্রুত এসব অস্ত্রশস্ত্র ও গোলা পাঠানো হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ফিলিস্তিনের গাজার ঘনবসতিপূর্ণ রাফা শহরে ইসরায়েলের সর্বাত্মক স্থল অভিযান শুরুর সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে চলতি মাসে অস্ত্রের এক চালান পাঠানোর বিষয়টি স্থগিত করে মার্কিন প্রশাসন।
এরই মধ্যে দেশটিকে আবার বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও গোলা পাঠানো নিয়ে ওই তথ্য বেরিয়ে এলো।
ইসরায়েলকে নতুন করে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের ট্যাঙ্কের গোলা, ৫০ কোটি ডলারের কৌশলগত সামরিক যান ও ৬ কোটি ডলারের মর্টারের গোলা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, অস্ত্রের চালান পাঠানো নিয়ে আলোচনা চলার বিষয়টি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের রাফা ক্রসিং বন্ধের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে মিসর। দেশটি বলছে, রাফা ক্রসিং বন্ধের জন্য একমাত্র ইসরায়েল দায়ী।
এর আগে গাজার লাইফ লাইন বলে পরিচিত এ ক্রসিং বন্ধের জন্য মিসরকে অভিযুক্ত করেছিল ইসরায়েল। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিরা যে মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তার জন্য একমাত্র ইসরায়েল দায়ী।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় এক দিনে আরও ৮২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা বহু সপ্তাহের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। রাফা শহরে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর সাড়ে পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি সেখান থেকে সরে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৭৯ হাজার ছাড়িয়েছে। এ গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা।