গাড়িতে করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে যাওয়ার সময় হামলায় জাতিসংঘের এক কর্মী নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, সোমবার ইউএন লেখা একটি গাড়িতে করে তাদের কর্মীরা গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী রাফার কাছের ইউরোপিয়ান হসপিটালে যাচ্ছিলেন।
কারা এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে এ বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা প্রাথমিক তদন্তে যে ইঙ্গিতে পেয়েছে সে অনুযায়ী গাড়িটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র দিয়ে যাচ্ছিল এবং ওই পথ সম্পর্কে গাড়ির আরোহীদের কোনো ধারণা ছিল না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে ইউরোপিয়ান হসপিটালের বাইরে ইউএন লেখা একটি গাড়ি দেখতে পাওয়া যায়। যেটির গায়ে একাধিক গুলির গর্ত রয়েছে।
বিবিসি ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখেছে।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) নিশ্চিত করে বলেছে, তারা ইউএন ডিফেন্স অব সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি থেকে একটি প্রতিবেদন পেয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, তাদের দুই কর্মী সোমবার রাফা এলাকায় আহত হয়েছেন।
আইডিএফ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে দেখার কথা জানিয়েছে।
গাজায় জাতিসংঘের কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘গভীর শোক প্রকাশ করেছেন’ সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সববেদনা প্রকাশ করেছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র ফারহান হক।
ফারহান হক বলেন, নিহত এবং আহত দুইজনই আন্তর্জাতিক কর্মী। তারা ফিলিস্তিনি নন। আমার বিশ্বাস সাত মাসের যুদ্ধে এটাই গাজায় প্রথম জাতিসংঘের কোনো আন্তর্জাতিক কর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনা।
অন্য একটি বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়া পর সেখানে জাতিসংঘের ১৯০ জনের বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন।
তবে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা সোমবারই প্রথম ঘটেছে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসের শুরুতে ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক খাদ্য দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন এর ছয় আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মী এবং তাদের একজন ফিলিস্তিনি সহকর্মী নিহত হন।