× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মুসলমানরা যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে ব্রিটিশ রাজনীতির গতিপথ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৪ মে ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)

কয়েক দশক ধরে মুসলমানদের জোরালো সমর্থন পেয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি। তবে এবার তাতে ভাটা পড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের কারণে এমনটি হয়েছে। যদিও পরে তিনি তার বক্তব্যের বিষয়ে সাফাই গাওয়ারা চেষ্টা করেছেন। 

গাজায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা উপেক্ষা করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো থেকে বিরত ছিলেন স্টারমার। গত বছর ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর পর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থানে অনঢ় ছিলেন এই লেবার নেতা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল কনজারভেটিব পার্টির মন্তব্যও ছিল ‘দুঃখজনক ও ঘৃণিত’।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৮টি স্থানীয় কাউন্সিল ওয়ার্ডে, যেখানে বাসিন্দাদের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি মুসলমান, সেখানে ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় লেবারদের ভোট ২১ শতাংশ কমে যায়। ১৪ মে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিতে প্রকাশিত সাংবাদিক মেহমেত সোলমাজের নিবন্ধে এমন সব বলা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়, পার্টির কর্মকর্তারা এই বিষয়টি আমলে নিয়ে তড়িঘড়ি বিবৃতি দেন। তারা মুসলিমদের ভোট ও সমর্থন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য লেবাররা পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির পরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

লেবার পার্টির ডেপুটি ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর এবং (ছায়া মন্ত্রিসভা) শ্যাডো ক্যাবিনেটের সদস্য এলি রিভস স্বীকার করেন, ‘মুসলিম ভোটারদের সমর্থন ও আস্থা ফিরে পেতে দলের অনেক কাজ করতে হবে।’ 

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘গাজায় কী ঘটছে তা নিয়ে আমি মানুষের উদ্বেগ অনুধাবন করতে পারছি। সেখানে যেভাবে প্রাণহানি হয়েছে তা অসহনীয়। সে কারণেই আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছি। 

গত অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর চার মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে লেবার পার্টির অনিচ্ছা ও গড়িমসির কারণে দলটির প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের সন্দেহ এখনও কাটেনি।  গাজা ইস্যুতে ব্রিটিশ ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যসহ কয়েক ডজন সিনিয়র ব্যক্তিত্বের পদত্যাগের পরে অবশেষে দলের অবস্থানগত পরিবর্তন আসে। প্রায় ৭০ জন লেবার এমপি দলীয় নীতি ভঙ্গ করে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় ১০০ জন কাউন্সিলর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান। যারা পদত্যাগ করেছেন তাদের অনেকেই হয় অন্য বিরোধী দলে যোগ দিয়েছেন বা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুসলিম ভোটারদের সঙ্গে পুনঃসংযোগের নির্দিষ্ট প্রশ্নে আবারও চাপ দেওয়া হলে স্টারমার ফের টালবাহানা করেন। তিনি বলেন, যেখানে আমরা ভোট পাইনি … আমরা সেগুলো ফিরে পেতে লড়াই করবো।

গাজায় বসবাসরত লক্ষাধিক ফিলিস্তিনির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করার 'অধিকার' ইসরায়েলের রয়েছে। এমন মন্তব্য করার পর স্টারমার তীব্রভাবে জনরোষের শিকার হন। কয়েকদিনের নীরবতার পর লেবার নেতা যুক্তি দেখান তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষা এবং জিম্মিদের উদ্ধারের অধিকার রয়েছে যা ‘আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে’ পড়ে।

স্টারমার আরও বলেন, ‘আমি বলছিলাম যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে, এবং যখন আমি বলেছিলাম, তখন আমি বলতে চেয়েছিলাম যে এটি আত্মরক্ষার অধিকার। আমি বলি নাই যে গাজায় পানি, খাদ্য, জ্বালানি বা ওষুধ বন্ধ করার অধিকার রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর।’

গত অক্টোবরে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার সময় তুর্কি-ব্রিটিশ সাংবাদিক মেহমেত সোলমাজ বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছিলেন, ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল (কনজারভেটিব পার্টি) এবং তার দল (লেবার পার্টি) দুই দলের করা মন্তব্যই ‘দুঃখজনক ও ঘৃণিত’ ছিল। তিনি বলেন, কেউ ভুলে যাবে না যে কীভাবে স্টারমার যুদ্ধাপরাধের দোসর হওয়া বেছে নিয়েছিলেন। তিনি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি গণহত্যা চালানো অপশক্তির সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। আরব এবং মুসলিম সম্প্রদায় এটি কখনই ভুলতে পারবে না। 

অন্যদিতে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ও মেয়র নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ১০৭টি কাউন্সিল নির্বাচনে বিরোধী দল লেবার পার্টির কাছে ধরাশায়ী হওয়ায় তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ের ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলাফলে দেখা যায়, স্যার কিয়ের স্টারমারের বিরোধী লেবার পার্টি ঋষি সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টির তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে এবারই কনজারভেটিভরা স্থানীয় নির্বাচনে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ল। 

আংশিক ফলে এগিয়ে থাকায় কিয়ের স্টারমার ঋষি সুনাককে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর তার সময় শেষ। অন্যদিকে, সুনাকও স্বীকার করেছেন, ফলাফল ‘হতাশাজনক’। 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.