প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সচিবের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পঞ্চম দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব করেন পুতিন। সের্গেই শোইগুর স্থানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আন্দ্রেই বেলোসভের নাম প্রস্তাব করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তবে বেলোসভের প্রার্থিতা রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে অনুমোদিত হতে হবে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গত রোববার বলেছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদটি কোনো বেসামরিক লোকের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং অত্যাধুনিক ধ্যান-ধারণা প্রয়োজন।’ সের্গেই শোইগুকে ২০১২ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছিল। এর দুই বছর আগে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে রাশিয়া। শোইগু ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পুতিন চান সের্গেই শোইগু নিকোলাই পাত্রুশেভের কাছ থেকে শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিষদে দায়িত্ব নিতে। তবে পাত্রুশেভের দায়িত্ব কোথায় দেওয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুতিনের সঙ্গে শোইগুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রায়ই তাকে তার জন্মভূমি সাইবেরিয়ায় মাছ ধরার সফরে নিয়ে যায়। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শোইগু ১৯৯০ এর দশকে জরুরি ও দুর্যোগ ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
বিবিসি ইউরোপের বিশ্লেষক ড্যানি আইবারহার্ড বলেছেন, তিনি প্রায়ই প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার গভীরতার বাইরে দেখতেন, বিশেষ করে দুই বছরেরও বেশি আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণের পরে। শোইগু ২০২৩ সালে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে ওয়াগনার ভাড়াটে প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। প্রিগোজিন মস্কোর বিরুদ্ধে একটি স্বল্পস্থায়ী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া অডিওগুলোতে শোইগুকে ‘ময়লাবাহী’ এবং ‘বয়স্ক ক্লাউন’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।