সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্পর্ক পাঁচ দশকের। নেতানিয়াহু প্রায়ই ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বাইডেনের প্রশংসা করেন। দেশ দুটির সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো ওয়াশিংটনের অস্ত্র সরবরাহ। এবার বাইডেন এই অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের বিষয়টিই সামনে এনেছেন। আসলে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় যে চরম মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা ঠেকাতে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছেন বাইডেন। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবারে মতো দুই দেশের সম্পর্কে ফাটলের আভাস পাওয়া গেল।
চলতি সপ্তাহে এ সম্পর্ক কিছুটা যেন গুটিয়ে নেন বাইডেন। বিষয়টি সামনে এসেছে টেলিভিশনে তার এক আলাপচারিতায়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইসরায়েল যদি গাজার রাফা এলাকায় স্থল হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে? বাইডেনের সাফ জবাব ছিল, ‘আমি আর অস্ত্র দেব না।’
এর জবাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ একা দাঁড়াতে পারে। ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্রের চালান বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। বুধবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন মিত্র ইসরায়েলকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের গাজার রাফায় পূর্ণমাত্রায় অভিযানের নির্দেশ দিলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে মার্কিন অস্ত্রের চালান বন্ধ করে দিতে পারে।
বাইডেনের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রয়োজন হলে...আমরা একা দাঁড়াব। আমি বলেছি, প্রয়োজনে আমরা আমাদের নখ দিয়ে লড়াই করব।’ গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইসরায়েলে বোমার চালান স্থগিত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে পড়েছেন বাইডেন। একদিকে রয়েছে ইসরায়েলের এককাট্টা সমর্থক রিপাবলিকান পার্টি, আরেক দিকে গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে বিভক্ত তাঁর ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে এখন পর্যন্ত বাইডেনকে দেখে মনে হয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নষ্ট হয়—এমন কিছু করতে চান না তিনি।
টেলিভিশনে বুধবার সাক্ষাৎকারটি দেন বাইডেন। এর আগ পর্যন্ত ইসরায়েলে অস্ত্রের একটি চালান স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই চালানে ২ হাজার পাউন্ড ও ৫০০ পাউন্ড ওজনের দুই ধরনের বোমা ছিল।
যদিও বাইডেনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। তিনি মনে করেন, রাফায় স্থল হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাফার পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে তৎপরতা শুরু করেছে তাদের স্থল বাহিনী। এই এলাকার জনবসতিগুলোর কাছে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলোও জড়ো হচ্ছে।
নেতানিয়াহুও বারবার একই কথা বলছেন যে, রাফায় পুরো মাত্রায় স্থল হামলা চালানো হবে। সেখানে হামাসকে নির্মূলের জন্য এমন অভিযান প্রয়োজন। যুদ্ধবিরতির চুক্তির বিষয়ে আলোচনা সফল হোক বা না হোক, এ অভিযান হবেই। গাজায় সাত মাস ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার মুখে এই রাফাতেই উপত্যকাটির ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে চরম মানবেতরভাবে জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
রাফায় পূর্ণ মাত্রায় স্থল হামলা না চালাতে ইসরায়েলকে বহুবার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বাইডেনের এ সংক্রান্ত এক নির্দেশের প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। তাতে বলা হয়েছে, গাজা সংঘাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসরায়েল হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছে। ওই প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে এই মূল্যায়নের বিষয়ে ‘পূর্ণ তথ্য’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। এর অর্থ দাঁড়ায়, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তারা।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল বাইডেন নেতানিয়াহু
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
