ফাইল ছবি
গাজায় পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়া কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতিতে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকমী সংগঠন হামাস।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ কথা জানান।
সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার দাবিও সশস্ত্র সংগঠনটির। তবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে রাজি নয় ইসরায়েল।
এদিকে, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় কায়রোতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির আলোচনার দ্বিতীয় দিনেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের ওই কর্মকর্তা জানান, স্পষ্টভাবে যুদ্ধের পুরোপুরি সমাপ্তির কথা উল্লেখ না থাকলে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাবেই সম্মত হবে না হামাস।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ এবং গোটা গাজা থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিই হবে না।
এ সময় তিনি আগ্রাসন বন্ধের বিষয়টি যুক্ত না করে চুক্তিতে কেবল ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির চেষ্টার নিন্দা জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কায়রোতে চলা যুদ্ধবিরতির আলোচনার দরকষাকষিতে ইসরায়েল ও হামাস কোনো ছাড় দিচ্ছে না।
হামাসের এক নেতা জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বাধা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে গাজায় পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধে হামাসের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ মানেই হামাস গাজার ক্ষমতায় থাকছে। আর এটি ইসরায়েলের জন্য হুমকি। এটা ইসরায়েল মেনে নিতে পারে না। তবে তাঁর দেশ জিম্মিদের মুক্ত করতে ইচ্ছুক বলেও উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।
এদিকে নিজ দেশেই বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল সরকার।
জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে শনিবার রাতে হাজার হাজার ইসরায়েলি নেমে আসেন রাস্তায়। বিক্ষোভ থেকে তারা দ্রুত একটি চুক্তির আহ্বান জানান। গাজা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য নেতানিয়াহুকেই দায়ী করেন তেল আবিবের বিক্ষোভকারীরা।
নাটালি এলডোর নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমাদের সব জিম্মি, জীবিত কিংবা মৃত– সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা এই সরকারের পরিবর্তন চাই।’
কয়েক মাস ধরে যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলছে কোনো অগ্রগতি ছাড়াই। সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি বা জিম্মির মুক্তি হয়নি।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা ও বর্বরতার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাকে ‘উস্কানি’ বলে অভিযোগ করে কাতারভিত্তিক আলজাজিরা বন্ধ করতে যাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
গতকাল দেশটির মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতভাবে এ-সংক্রান্ত আইন পাস হয়। অবিলম্বে এটি কার্যকর করবে দেশটি।
আইনটি কার্যকর হলে ইসরায়েলে আলজাজিরার ইংরেজি ও আরবি– দুই ভাষার সম্প্রচারই পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হবে চ্যানেলটির সব সরঞ্জাম।
শুধু তাই নয়, সংবাদমাধ্যমটির অনলাইন ভার্সনেও কাড়াকড়ি আরোপ করবে তেল আবিব। যাতে করে আনলাইনেও কেউ চ্যানেলটি দেখতে না পারে।
আইন পাসের পর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে সরকার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইসরায়েলে আলজাজিরা বন্ধ করা হবে।’
এদিকে, চ্যানেলটি বন্ধের আইন পাস যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছে খোদ ইসরায়েলের বিরোধী দল জাতীয় ঐক্য পার্টি। কারণ, কাতার সরাসরি এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে।
অন্যদিকে গাজার বাসিন্দারা বলছেন, ইসরায়েল যে বর্বরতা চালাচ্ছে, বিশ্ববাসী যাতে তা না জানতে পারে, সেজন্যই মরিয়া হয়ে ইসরায়েল সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
