হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কোনো মূল্য আমাদের কাছে নেই। যদি ইসরায়েল তাদের কোনো জিম্মিকে ফিরিয়ে নিতে চায় তাহলে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত মানা হবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের চাপেও কোনো কাজ হবে না বলে জানিয়েছে হামাস।
বুধবার হার্স গোল্ডবার্গ-পোলিন নামের এক ইসরায়েলি-আমেরিকান জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করে হামাস। এরপর জিম্মিদের ছেড়ে দিতে হামাসের ওপর চাপ প্রয়োগ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ১৮টি দেশের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আর বাইডেনের এমন বিবৃতির পরই হামাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই।
৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর দিন ইসরায়েলের বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে হামলা চালিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে গাজায় ধরে নিয়ে আসে হামাস। এরমধ্যে ১০৫ জনকে গত বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকে হওয়া এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় ছেড়ে দিয়েছে তারা। গতকাল যখন আমেরিকান-ইসরায়েলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করা হয় তখন থেকেই আবারও জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
গত বছর ৭ অক্টোবর জঙ্গি সংগঠন হামাস ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তাদের হামলায় এক হাজার ২০০ জন মারা যান। জবাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তখন থেকে ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান। অভিযানের ফলে খাবার, পানি ও ওষুধের অভাবে গাজায় মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।