প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে। এর এক সপ্তাহের মাথায় রাজধানী মস্কোতে ভয়াবহ হামলা হলো। এতে নাগরিকদের প্রতি তাঁর দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
এদিকে পুতিনের দাবি- তাঁর কাছে জাতীয় নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ খোদ রাজধানীর বুকেই কনসার্ট হলে হামলায় প্রায় দেড়শ মানুষের প্রাণহানি ও আরও দেড় শতাধিক আহতের ঘটনা ঘটলো। এ হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলা চালানোর দায় স্বীকার করলেও পুতিন তাঁর ভাষণে এ বিষয়ে কিছুই বলেননি। বরং রুশ নেতা ইঙ্গিত দেন, ইউক্রেন এই ট্র্যাজেডির পেছনে জড়িত। যদিও তাঁর এই অভিযোগকে অর্থহীন বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন।
সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা পেলেও তা পুতিন দৃশ্যত উপেক্ষা করেছেন। সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার করার পরিবর্তে তিনি সেগুলোকে ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
আইএস হামলার দায় স্বীকারের পর এখন এই নিয়ে দেশটিতে চলছে নানা বিশ্লেষণ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কাইনেভ বিশ্বাস করেন, অনেক রুশ নাগরিক এখন ভয়ের মধ্যে আছেন। কারণ শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা সব সময়ই পুতিনের রাজনৈতিক সুবিধার ট্রাম্পকার্ড।
এদিকে, হতাহতের ঘটনায় রাশিয়ায় গতকাল শোক দিবস পালিত হয়েছে। এদিক অর্ধনমিত রাখা হয় দেশটির জাতীয় পতাকা। মস্কোর বিভিন্ন স্থানে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রুশরা।
কনসার্ট হলের উদ্ধার কাজ শেষ হলেও এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ।
তিনি বলেছেন, উদ্ধারকারীরা অডিটোরিয়ামের বিশাল স্তর পরিষ্কার করেছে। এখন মরদেহ শনাক্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি ১০৭ জনকে বাঁচাতে লড়াই করছেন চিকিৎসকরা।