ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের ভরাডুবির পূর্বাভাসের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বর্তমান জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ (ইউটিজে) এবার সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে জোট গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলায় ইউটিজের শীর্ষ নেতারা আইজেনকটের তরফ থেকে রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব বা একটি ফোনকলের জন্য অপেক্ষা করছেন। যদিও উভয় পক্ষের রাজনৈতিক ভাবধারায় বড় ধরনের নীতিগত পার্থক্য রয়েছে, তবুও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত দলটি।
ইতোমধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন উগ্র ইহুদিবাদী ও ডানপন্থী জোট পাচ্ছে মাত্র ৫৩টি আসন—যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের অতিসঙ্কটজনক ঘাটতি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরবদের রাজনৈতিক দলগুলো একাত্পভাবে ১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
নেতানিয়াহুর একক দল 'লিকুদ পার্টি' ২৭টি আসন পেলেও ইউটিজে এককভাবে ৭টি আসন পেয়ে জোটের দ্বিতীয় শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইজেনকট যদি ইউটিজে এবং আরব জোটগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পান, তবে দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু সরকারের পতন সুনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তবে চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো নির্ভর করছে 'ডাবল এনভেলপ' পদ্ধতির প্রায় সাড়ে চার লাখ বিশেষ ব্যালট গণনার ওপর। সেনাসদস্য, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের এই ভোট গণনার মাধ্যমে কোনো দলের একটি বা দুটি আসন পরিবর্তিত হলেও তা সরকার গঠনের জটিল দর-কষাকষিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক ভাগ্য ও নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের এই নাটকীয় টানাপোড়েন এখন দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থায়িত্বকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।