ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাজারেথে একটি বিলবোর্ডে ইসরায়েলি আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট পার্টির প্রার্থী সামি আবু শেহাদেহ, ইউসেফ জাবারিন ও আহমাদ তিবির (বাঁ থেকে ডানে)ছবি: এএফপি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির 'চেঞ্জ ব্লক'-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছে আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জোট 'জয়েন্ট লিস্ট'। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক আরব ভোটারের উপস্থিতি এবং অভাবনীয় ফলাফলের পর দেশটির ১২০ আসনের নেসেটে ক্ষমতার পাল্লা নিজেদের দিকে ঝুঁকছে বলে দাবি করছেন আরব নেতারা।
সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন উগ্র ইহুদিবাদী ও ডানপন্থী জোট পাচ্ছে ৫৩টি আসন—যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৭টি কম। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন 'চেঞ্জ ব্লক' ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর বিপরীতে, জয়েন্ট লিস্টের ১২টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্টের (রা'আম) ৭টিসহ আরব প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো ইতিহাস গড়ে মোট ১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
এক লিখিত বিবৃতিতে জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ও নেসেট সদস্য আহমাদ তিবি বলেন, "নেতানিয়াহু ও বেন-গভির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আমরা ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। আরব নাগরিকদের বিপুল অংশগ্রহণ জয়েন্ট লিস্টের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন এবং তাদের ছাড়া ইসরায়েলের রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।" তিনি আরও স্পষ্ট জানান, নতুন নেসেট স্পিকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি, ইয়ার লাপিদের ইয়েশ আতিদ, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস, নাফতালি বেনেটের বেয়াখাদ এবং আভিগদোর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতিনু নিয়ে গঠিত বিরোধী 'চেঞ্জ ব্লক'। গাজা যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক মতভেদের কারণে নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা সাবেক শীর্ষ জেনারেল আইজেনকট এখন এই নিবন্ধিত বিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ভোটকেন্দ্রে প্রতিবন্ধকতা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবার রেকর্ডসংখ্যক আরব নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে ভোটাভুটিতে নিষ্ক্রিয় থাকা এই জনগোষ্ঠীর ওপর নেতানিয়াহুর টানা উস্কানিমূলক প্রচারণাই উল্টো তাঁদের কেন্দ্রে টানতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার ভোরে উত্তর ইসরায়েলের তাইবে শহরে এক আবেগঘন বিজয় সমাবেশে দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আহমাদ তিবি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "অপরাধী ও উগ্র ইহুদিবাদী বেন-গভির আর পুলিশমন্ত্রী থাকবেন না। তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে।"
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের এই নাটকীয় ভোটাভুটির পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামী ৪ নভেম্বর ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বর্তমান ফল অপরিবর্তিত থাকলে নেতানিয়াহুর টানা একক আধিপত্যের পতন ঘটিয়ে আরব জোট ও বিরোধী শিবিরের এক অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে ইসরায়েলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
