× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইউরোপজুড়ে জেন–জিরোদের বিদ্রোহ, শিক্ষার সংকট ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিতে উত্তাল রাজপথ

সিএনএন

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩২ পিএম । আপডেটঃ ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩৪ পিএম

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেল সরিয়ে নিচ্ছেন এক বিক্ষোভকারী। ফ্রান্সের প্যারিস, ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: এএফপি

শিক্ষা খাতের চরম দুরবস্থা, আকাশচুম্বী আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজপথে নেমে এসেছে তরুণ প্রজন্ম—যাঁরা ‘জেন–জি’ (Generation Z) হিসেবে পরিচিত। গত শনিবার ফ্রান্সসহ ইউরোপের একাধিক দেশে এই আন্দোলন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে। ফরাসি রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পুরো অঞ্চল এক প্রকার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

ফ্রান্সের শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আয়োজিত এই বিক্ষোভে শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বরং শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক ও জলবায়ুকর্মীরাও সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিয়েছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি ও জনসেবা খাতের বেহাল দশার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভ দমনে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান এই বিক্ষোভের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে শিক্ষার মান অবনতি এবং মারাত্মক আবাসনসংকট। স্পেনে ৮৭ বছরের এক বৃদ্ধাকে উচ্ছেদ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আবাসন আন্দোলন ইতিমধ্যে পর্তুগালসহ আশেপাশের দেশগুলোতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে লিসবনের রোসিও চত্বরে তরুণদের তাঁবু গেড়ে অবস্থান এবং পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

ইতালির ছাত্রনেতা সাবরিনা ব্রিজোলা বলেন, "আমরা এমন বিদ্যালয় চাই, যেগুলোর ছাদ ধসে আমাদের মাথায় পড়বে না। আমরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ চাই। চাই, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আর সামাজিক ন্যায়বিচার। আসুন, আমরা আমাদের দাবির পক্ষে সোচ্চার হই।"

ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইউরোপিয়ান করেসপনডেন্ট’-এর প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিন্টেলমান মনে করেন, "মৌলিকভাবে আমরা দেখছি, উদার গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়ছে। সেই প্রতিশ্রুতি ছিল—পরবর্তী প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্মের চেয়ে ভালো জীবন পাবে। কিন্তু সেটা এখন আর সত্য বলে মনে হচ্ছে না।"

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর প্রশাসন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও সুনির্দিষ্ট সমাধানের অভাবে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। এদিকে, আলবেনিয়া ও সার্বিয়ায় এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যেও জেন-জিদের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.