× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কানাডায় ২০০+ ভিসা জালিয়াতি, ফেঁসে গেলেন ৫ বাংলাদেশি

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৮ পিএম । আপডেটঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩০ পিএম

কানাডার জাতীয় পতাকা। রয়টার্স: ফাইল ছবি

জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে দুই শতাধিক বাংলাদেশির অস্থায়ী ভিসা আবেদনের মাধ্যমে কানাডায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন দেশটির আদালতে সমন পেয়ে হাজির হলেও বাংলাদেশে অবস্থানরত পঞ্চম অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

কানাডা সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সিবিএসএ-র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, সুপরিকল্পিত জালিয়াতির এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত চার ব্যক্তি—রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম—গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। তবে অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ চক্রটি মোট ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের অনুকূলে ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসার (টিআরভি) আবেদন দাখিল করেছিল। আবেদনে কানাডীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে মিথ্যা আমন্ত্রণপত্র, জাল কাগজপত্র ও অসত্য তথ্য সরবরাহ করে ভিসা হাতানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় জটিল এই জালিয়াতি চক্রের সবচেয়ে গুরুতর আলামত যুক্ত ৭৯টি ভিসা আবেদনকে প্রাথমিক বিচারিক অনুসন্ধানের মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিবিএসএ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মারসিয়ে শহরের একটি ভবনে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় সিবিএসএ। অভিযানে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন (আইআরপিএ) লঙ্ঘনের প্রাথমিক আলামত মেলার পর আগস্টে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি পৃথক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার সামগ্রী, মেমোরি ড্রাইভ ও জাল নথিপত্র, যা সরাসরি পাঁচ আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডার অভিবাসন আইন অমান্য করে অবৈধ প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও জেনেশুনে ভুল তথ্য প্রদান এবং অন্য নাগরিকদের আইন ভঙ্গ করতে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার তিনটি পৃথক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগসমূহ এখন কুইবেক বিচারব্যবস্থার অধীনে পূর্ণাঙ্গ শুনাই ও যাচাই-বাছাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

অভিযান ও আন্তর্জাতিক এই প্রতারণা উন্মোচনের পর কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "কানাডার অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে এই ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া বা এর সুনাম ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টার পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর। আমরা সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় একচুল ছাড় দেব না।"

অন্যদিকে, সিবিএসএ কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের এক বিবৃতিতে জানান, "কানাডার সুশৃঙ্খল অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহার রোধে এবং জাতীয় ব্যবস্থার ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা বজায় রাখতে এই তদন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।" তিনি অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী প্রতিটি চক্রকে চিহ্নিত করে আইনগত শাস্তির আওতায় আনতে সংস্থাটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

বর্তমানে মামলাটির বিচারিক বিচারপ্রক্রিয়া কুইবেকের আদালতে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্ত পঞ্চম আসামিকে কানাডীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.