× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পশ্চিম তীরে গুলিতে ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত, ১৯৬৭ সালের মতো বড় হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

এএফপি ও আল–জাজিরা

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৬ পিএম । আপডেটঃ ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৭ পিএম

পশ্চিম তীরের হেবরনে গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি একজন পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। ফিলিস্তিন, ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: এএফপি

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে আজ শুক্রবার ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর আকস্মিক গুলিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দুই সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ওই দুই সেনা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং এ সময় পাল্টা গুলিতে দুই হামলাকারীও নিহত হন। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ঘটা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালানোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শুক্রবার সকালে হেবরন শহরের কাছে ফারশ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকিতে এই সশস্ত্র সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এএফপির প্রতিবেদকের চোখের সামনেই পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলধারী দুই ফিলিস্তিনির সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে যে, নিহত দুই সেনা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান ও সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম। এ ঘটনায় একই ব্যাটালিয়নের আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় অবিলম্বে পশ্চিম তীরে কঠোর অবরুদ্ধ অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হেবরন সফরকালে তিনি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক যৌথ পর্যালোচনায় ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম পশ্চিম তীরে অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।

নেতানিয়াহু বলেন, "আইডিএফ এই অভিযান চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আমরা এর সময় দ্রুত নির্ধারণ করব। অভিযানের প্রথম ধাপে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে, এরপর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সব ধরনের সন্ত্রাসী অবকাঠামো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে।"

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবির থেকেও আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ গাজার আদলে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত এবং পুরোপুরি অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস নির্মূল না করা পর্যন্ত আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।" অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে বর্তমান হামলায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দায় সরাসরি স্বীকার না করলেও এই সশস্ত্র হামলাকে খোলাখুলিভাবে সমর্থন ও প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এটিকে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলা দীর্ঘদিনের আগ্রাসনের ‘যথাযথ ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে নিহত হামলাকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হামাস পশ্চিম তীরের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতিরোধ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মঙ্গলবারের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই রক্তক্ষয়ী হামলা এবং ইসরায়েলি নেতৃত্বের কড়া সামরিক হুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিম তীরের জলপাইচাষিদের ওপর উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং চলমান সেনা অভিযানের মুখে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.