জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে বিশ্বজুড়ে তরুণদের আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ফ্রান্স, সার্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও তিউনিসিয়ার পর এবার ইউরোপের অর্থনৈতিক পরাশক্তি জার্মানিতেও দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণদের একটি সংগঠন। আগামী ৩১ অক্টোবর জার্মানির ২১টি শহরে এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের দাবির আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ায় গত সপ্তাহান্ত থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আংশিক সংঘাতে আড়াই হাজার মানুষকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যেই সার্বিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় নির্বাসিত বিরোধী নেত্রীকে দেশে ফেরানো ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে হাজারো মানুষ রাজপথে নেমেছেন এবং তিউনিসিয়ায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
ফ্রান্সের প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষকসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ অননুমোদিত বিক্ষোভের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জার্মানির তরুণদের সংগঠন ‘জেন জেড রেগেল্ট’-এর ডাকে আগামী ৩১ অক্টোবর শিক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন, মূল্যস্ফীতি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও আয়োজকেরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলছেন, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা—উগ্রপন্থীরা এই সুযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে তারুণ্যের এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ কেবল স্থানীয় কোনো সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জনসেবার ঘাটতির বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে এই আন্দোলন বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।