ফ্রান্সের রাস্তায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। ছবি: রয়টার্স
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মেরুকরণ চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সরকারি ভবনে হামলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ায় দেশটির তীব্র অভ্যন্তরীণ বিভাজনের চিত্র পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এমন এক অশান্ত পরিবেশের মধ্য দিয়েই আগামী এপ্রিলে হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে দেশটি, যেখানে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থী শক্তির সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, "বিক্ষোভ প্রদর্শন একটি মৌলিক অধিকার।" তবে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ জানান, 'উগ্র বামপন্থী কয়েক হাজার ব্যক্তি' সরকারি ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন 'নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড' চালিয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে পরে তাদের সঙ্গে একদল অপরাধী যোগ দেয়, যারা ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
সরকার ও পুলিশের এই ভূমিকার চরম বিরোধিতা করে মুখ খুলেছেন দেশটির উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক দল 'লা ফ্রঁস ইনসুমিজ'-এর শীর্ষ নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিক্ষোভ সামলাতে তারা সম্পূর্ণ অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।" আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের তিনি 'পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিশেষজ্ঞ' বলেও আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, এই সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে উগ্র বামপন্থীদের একহাত নিয়েছেন উগ্র ডানপন্থী দল 'ন্যাশনাল র্যালি'-র প্রধান নেত্রী মেরিন লে পেন। জনগণের ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, "সহিংসতাকে উৎসাহিত করে এমন রাজনৈতিক শক্তিগুলো সাধারণ মানুষের সামাজিক ক্ষোভকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যবহার করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ফ্রান্সে বাম ও ডানপন্থীদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও নীতিগত সংঘাত তত তীব্র হচ্ছে। বিক্ষোভের নামে হামলা-লুটপাট ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ ঘিরে উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
