প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের সময় এক আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
ভারতের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা 'এসআইআর' (SIR)-এর জেরে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের নেতৃত্বে তীব্র গণবিক্ষোভ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার মৃত ও দ্বৈত ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা পরিচ্ছন্ন করার অংশ হিসেবে এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে বৈধ বলে দাবি করে আসছে। তবে সমালোচক, বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জোরালো অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে দেশের কোটি কোটি মুসলিম, সংখ্যালঘু, দরিদ্র ও নিম্নবর্ণের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মূলত বিজেপিবিরোধী ভোটারদের কোণঠাসা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই নীতির শিকার হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক সাহিদা ফকিরকে অবৈধ বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। অথচ সাহিদার কাছে তাঁর ভারতীয় জন্মনিবন্ধন সনদ ও পারিবারিক সমস্ত আইনি নথিপত্র রয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি গার্ডিয়ানকে জানান, "আমি যে ভারতের নাগরিক, তা প্রমাণ করার মতো সব নথি আমার আছে। পুলিশকে বাংলাদেশে না পাঠানোর জন্য পায়ে পড়ে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়।" বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও নথিপত্র যাচাই করেও তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্বের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে যখন দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি সত্ত্বেও প্রধান কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে এই সংশোধনী বাস্তবায়ন করেছেন। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি বলেছেন, "এটি মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পিত জাতীয় হয়রানিমূলক প্রক্রিয়া। ভারতের নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায়, বাদ দেওয়া ভোটারদের আবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।"
এদিকে নির্বাচন কমিশন চাপের মুখে পড়ে গণহারে অন্যের নাম বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা রোধে ফরম জমার সংখ্যার ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি লড়াইয়ের জেরে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের নিরপেক্ষতা এখন এক গভীর প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
