যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ইরি শহরে মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনাস্থল কর্ডন করে রেখে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় দুই শিশু ও আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের আট সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে একটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালানোর পর ঘাতক বন্দুকধারী নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পেনসিলভানিয়ার ইরি শহরের লোধি এস্টেট সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় শুক্রবার বিকেলে কয়েক দফায় গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিক জরুরি নম্বরে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বাইরে দুজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে এবং ভেতরে প্রবেশ করে বন্দুকধারীসহ আরও সাতজনের নিথর দেহ খুঁজে পায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবাই একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
তদন্তকারীদের সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার আকুল চেষ্টা করছিলেন। এমন সময় ঘাতক বন্দুকধারী বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অত্যন্ত কাছাকাছি দূরত্ব থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। পরবর্তীতে নীরব হয়ে যাওয়া ওই বাড়ির নিচতলায় ৫ বছর ও ১ বছর বয়সী দুটি নিষ্পাপ শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দোতলা ও সিঁড়ির ঘর থেকে ২৪, ৪৪, ১৯ এবং ২১ বছর বয়সী চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে ২৪ বছর বয়সী তরুণীটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটিকে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত চরম জটিলতার ফলাফল হিসেবে দেখছে। ইরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বীভৎস অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ঘটনাস্থলের কিছু ভয়াবহ দৃশ্য এমন থাকে, যা সেখান থেকে চলে আসার পরও দীর্ঘদিন মানুষের মনে গভীর ক্ষত হয়ে গেঁথে থাকে। এটি তেমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।"
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের পর সমগ্র পেনসিলভানিয়া জুড়েই চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাজ্যের গভর্নর জশ শাপিরো এক শোকবার্তায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "ঘটনার আকস্মিকতায় এই পরিবারের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যে কোনো মানসিক ও আইনি সহায়তায় আমাদের প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।" পুলিশ ঘটনাটির বিস্তারিত অনুসন্ধানে ব্যালাস্টিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
