× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সাবেক আইসিসি বিচারকের নোবেল জয়ের পরপরই আদালতটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা

রয়টার্স

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ এএম । আপডেটঃ ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ এএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগস্থিত সদর দফতর, যা মার্কিন সরকারের নজিরবিহীন আর্থিক ও কৌশলগত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক এক বিচারক মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সংস্থাটির ওপর ব্যাপকভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার ওয়াশিংটনের ঘোষিত এই কড়া পদক্ষেপে আইসিসির পাশাপাশি সংস্থাটিকে সেবাদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। চরম বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ মারাত্মক রূপ নেওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি আঘাত এসেছে ঠিক তখনই, যখন আদালতটির সাবেক আপিল বিভাগের বিচারক (২০০৩-২০০৮) ও দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজীবী নাভি পিল্লাই বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখার জন্য চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। নোবেল কমিটি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চতুর্দিক থেকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়েছে, তখনই বিশ্বকে সতর্ক করতেই পিল্লাইকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

এক কড়া বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, না হয় আমরা আইসিসির অস্তিত্ব শেষ করে দেব।" ওয়াশিংটন অভিযোগ তুলে বলেছে, মার্কিন নাগরিক বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির যেকোনো বিচারিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমেত্বর চরম লঙ্ঘন।

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না। এ কারণে আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই দুর্বৃত্ত আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে, তাদের সম্পদের পথ বন্ধ করা হবে এবং কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া হবে।"

যুক্তরাষ্ট্রের এই অভূতপূর্ব অবরোধ সত্ত্বেও পিছপা না হওয়ার দৃঢ় বার্তা দিয়েছে হেগভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আদালত। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের কোনো বিচারিক কার্যক্রমই থমকে যাবে না।

আইসিসি ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। তবে আমাদের সব মামলা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলতে থাকবে।"

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বিধিনিষেধ আগের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর ও বিস্তৃত। নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সফটওয়্যার প্রদানকারী ও বিমা সংস্থাগুলো আইসিসির সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সেবা স্থগিত করতে বাধ্য হতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে আইসিসি কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই মাইক্রোসফটের বিকল্প হিসেবে উন্মুক্ত বা ওপেন সোর্স সফটওয়্যার এবং নতুন ব্যাংকিং কাঠামো ব্যবহারে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেছিল।

সংকট সমাধানে আলোচনার পথ কিছুটা খোলা রাখতে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চার ধরণের বিশেষ সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এর ফলে টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যারসংক্রান্ত সীমিত লেনদেন, পেনশন পরিশোধ এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু ছাড় সাময়িকভাবে বহাল থাকবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে ইইউ ও ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের বাধ্য করতেই এই দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

১২৫টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি মূলত বিশ্বজুড়ে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাজ করে থাকে। অতীতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই ওয়াশিংটনের তীব্র রোষানলে পড়ে সংস্থাটি। ন্যাটোর প্রধান দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ব্যতীত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য দেশই আইসিসির স্থপতি ও অংশীদার।

আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিল ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ওয়াশিংটনের এই ভৌগোলিক সীমানা-বহির্ভূত নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতে 'ব্লকিং মেকানিজম' বা প্রতিরোধমূলক আইনি সুরক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের শাসন বনাম পরাশক্তির প্রভাবের এক নজিরবিহীন সংঘাতের রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.