আরব সাগরে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের উড্ডয়ন ডেকে একটি যুদ্ধবিমান মেরামতের কাজে ব্যস্ত মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে ওই অঞ্চলের জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট’ স্ট্রাইক গ্রুপসহ আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানান, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি উভচর ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান নেবে। ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই মোতায়েনে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান এবং মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা যুক্ত হচ্ছেন। নতুন এই বাহিনীর আগমনে অঞ্চলে আগে থেকে মোতায়েন থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সামরিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির এই কৌশলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস থেকে নতুন করে হামলার নির্দেশ এলেই সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে। তবে পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের পরোক্ষ কূটনৈতিক সমঝোতা হলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই মুহূর্তে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "ইরান হয়তো সঠিক ও বুদ্ধিমান কোনো পদক্ষেপ নেবে, নয়তো খুব বেশি দিন টিকে থাকবে না।"
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ও জব্দ সম্পদ মুক্তির যে সাত দিনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বরং ইরানের রেল ও অটোমোবাইল খাতের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তেহরানের আয়ের শেষ উৎসগুলো চেপে ধরার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং ওয়াশিংটনের সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে তেহরানও। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ বা সংঘাত বৃদ্ধির পাঁচার জবাবে ইরানও পাল্টা সংঘাতের জন্য প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, "আমরা যুদ্ধের বয়ান বিক্রি করতে নিউইয়র্কে আসিনি, আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছি। তবে যুদ্ধ আবার শুরু করার জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত।"
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঘাঁটিগুলো থেকে ১২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার অতিরিক্ত মেরিন সেনা মোতায়েন সাধারণ সেনা রোটেশন বা রুটিন কার্যক্রমের অংশ নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত সামরিক অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন জনমনে যুদ্ধের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়লেও, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির চূড়ান্ত চাপ বজায় রেখেই তাদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
