ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সায়েদ মুজতাবা খামেনেয়ী বলেছেন, হরমুজ প্রণালির বীর রক্ষকদের জোরালো আঘাতের মুখে শত্রুরা আরব সাগরের সীমানা পেরিয়ে সামনে এগোনের সাহস হারিয়েছে। তিনি জানান, শিগগিরই সমগ্র আরব সাগরও শত্রুশক্তির উপস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা হবে।
পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ এবং লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এ কথা বলেন তিনি। বার্তায় তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বর্তমানে সমগ্র ইরান জুড়ে সর্বোচ্চ মাত্রার সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইরানিদের জন্য সম্মান এবং প্রতিপক্ষের জন্য চরম পরাজয় বয়ে আনবে।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগের দিনগুলো ছিল পরাধীনতা ও অপমানের। তৎকালীন পরাশক্তিগুলোর নির্দেশ মেনে ইরান শাসিত হলেও ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর নেতৃত্বের বিপ্লব সেই ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে। বাথ পার্টির চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধ এবং পরবর্তী নানা সংকট ইরানকে দুর্বল করার বদলে সামরিক ও সামাজিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, "পার্থিব হিসাব-নিকাশে অনেকে আজ ইরানকে বিশ্বের চতুর্থ পরাশক্তি মনে করে। কিন্তু ঈমান ও সত্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমাদের দেশ আল্লাহর বিচারে বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। অতীতে শত্রুরা ইরানের সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করার অপচেষ্টা চালালেও আজ আপামর জনগণ হরমুজ প্রণালিসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রেখেছে।"
খামেনেয়ী বলেন, শামের দীর্ঘ ইতিহাসে তাঁর মতো দূরদর্শী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বিরল। বর্তমানে হিজবুল্লাহর নতুন মহাসচিব সাইয়্যেদ শেখ নাঈম কাসেমের দূরদর্শী নেতৃত্বে লেবাননের বীর মুক্তিযোদ্ধারা আশুরার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিবাদী আগ্রাসীদের প্রতিহত করছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ প্রতিপক্ষের জন্য কেবল লাঞ্ছনা ও পরাজয়ই ডেকে আনবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, ইমাম মাহদির বিশেষ কৃপা ও জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের শক্তিতে ইরান এবং এর মিত্ররা চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।