কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কেবল উন্মুক্তই নয়, বরং এটি মার্কিন সাবমেরিনের জন্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর ‘শিকারের ক্ষেত্র’ হিসেবে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র কমান্ডার হোসেইন মোহেব্বি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন, প্রণালিতে ইরান নৌবাহিনী মার্কিন বহরের দ্বিতীয় উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন (এএইউভি) ‘এমকে ১৮ মড ২ কিংফিশ’ সফলভাবে আটক করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে এক মার্কিন জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন মার্কিন মেরিন সেনা আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি।
আইআরজিসির মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি রবিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, "দ্বিতীয় শিকারটিও ধরা পড়েছে, এবার এমকে ১৮ মড ২ কিংফিশ। এটি একটি উন্নত, স্বয়ংক্রিয় এএইউভি, যা সোনার ও নির্ভুল নেভিগেশনে সজ্জিত এবং যার মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার।" তিনি আরও যোগ করেন, "এটি শুধু একটি সাধারণ শিকার নয়; এটি আমাদের জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সম্পদ।"
ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (আইআরআইবি) বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আটকা পড়া এই চালকহীন ডুবোজাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় ও অত্যাধুনিক সাশ্রয়ী নজরদারি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত আটজন মেরিন সেনা আহত হয়েছেন।
পূর্বে ইরানের সামরিক নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, উপযুক্ত পূর্বানুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা চালানো যেকোনো বিদেশি সামরিক জলযান ও বহরের বিরুদ্ধে আইআরজিসি ও ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক সামরিক ব্যবস্থা নেবে।
নতুন করে মার্কিন ড্রোন আটক ও সামরিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এক নতুন ও সংকটময় মোড় নিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা।