দখলকৃত জেরুজালেমে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ব্যাপক অনুপ্রবেশ ও হামলা চালিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসরায়েলি পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বসতি স্থাপনকারীদের একাধিক দল ‘বাব আল-মাগারিবা’ (মরক্কো গেট) দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এ সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পুরো পুরান জেরুজালেম এলাকার আল-আকসামুখী সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা 'মাআন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের অনুপ্রবেশের ঠিক আগের দিন রোববারও প্রায় দেড় হাজার উগ্র বসতি স্থাপনকারী ও ইহুদি ধর্মীয় নেতা (রাব্বি) আল-আকসায় প্রবেশ করে। তারা মসজিদের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার 'বাব আল-কাতানিন'-এর কাছে অবস্থান নিয়ে উসকানিমূলক 'তালমুদিক' ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপদে চলাচলের অজুহাত দেখিয়ে দখলদার সামরিক বাহিনী পুরান জেরুজালেমের মূল সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।" তারা অভিযোগ করে, এটি আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি স্ট্যাটাস-কো (Status Quo) বা স্থিতাবস্থা বদলে দেওয়ার এক পরিকল্পিত চক্রান্ত।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই আল-আকসায় বেআইনি অনুপ্রবেশের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ৪৮০ জন এবং ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ জন বসতি স্থাপনকারী উসকানিমূলকভাবে মসজিদে প্রবেশ করে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জোরপূর্বক আল-আকসায় প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে অন্তত ৮০০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে আল-আকসা মসজিদ এলাকা থেকে বহিষ্কার ও প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম এই স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর এমন সামরিক তৎপরতা এবং চরমপন্থী দলগুলোর বারবার অনুপ্রবেশ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।